নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে জাতীয় মেধা তালিকা করার নির্দেশ

বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি জাতীয় মেধা তালিকা প্রণয়নে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা কোটা বাতিল করে শিক্ষক নিয়োগে সাত দফা নির্দেশনাও দিয়েছে আদালত।

রায়ে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সুপারিশ অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুপারিশ আগ্রাহ্য করে তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বাতিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।

রায়ের নির্দেশনাসূমহ হচ্ছে, নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ দিতে হবে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ওই সনদের কার্যকারিতা বহাল থাকবে। একইসঙ্গে তিন বছর মেয়াদী যেসব সনদ দেয়া হতো তা বাতিল করা হলো। রায়ের কপি পাওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে উত্তীর্ণদের নিয়ে সমন্বিত জাতীয় মেধা তালিকা তৈরি করে তা এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। শুধু তালিকা প্রকাশ করলেই হবে না তা সকলের কাছে দৃশ্যমান হতে হবে। এনটিআরসিএ প্রতিবছর মেধা তালিকা হালনাগাদ করবে। সম্মিলিত মেধা তালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারী এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের নামে সনদ জারি করতেও নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ করতে শিগগিরই পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ-প্রত্যায়ন বিধিমালার ২০০৬ এর বিধি ৯ এর উপ-বিধি ২(গ) বলা হয়েছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় ভিত্তিক মেধাক্রম অনুসারে ফলাফলের তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হবে। এই বিধি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সিরাজগঞ্জের লিখন কুমার সরকার, জামালপুরের সেলিম রেজাসহ ১৭২ জন নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষক। পরে আরও বিভিন্ন সময়ে অনেক সনদধারী রিট করেন। ওইসব রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা কোটা পদ্ধতি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। পরবর্তীকালে ১৬৬টি রিট আবেদনের জারিকৃত রুলের ওপর হাইকোর্টের এই বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রুলের শুনানিতে এনটিআরসিএ আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, পদ ও বিষয় ভিত্তিক ২২ হাজার ৫৬৭টি পদ শূণ্য রয়েছে। রিটকারী পক্ষে আইনজীবী এম. আমীর-উল ইসলাম, এবিএম আলতাফ হোসেন, হুমায়ুন কবির, ইশরাত হাসান, এনটিআরসিএ’র পক্ষে কাজী মাইনুল হাসান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস অংশ নেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ রায় দেয়।

Inline
Inline