নিজের জন্যই ট্রাফিক আইন মানা উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমাদের নিজেদের জন্যই ট্রাফিক আইন মানা প্রয়োজন। দ্রুত যাবার চাইতে জীবন রক্ষা করে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

১৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ ২০১৯ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ।

চলতি সপ্তাহে রেড ক্রিসেন্টকে ট্রাফিক সচেতনতায় সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে রোভার স্কাউটকেও সংযুক্ত করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশে একটা ম্যাসেজ দিতে চাই যে, কীভাবে ট্রাফিক আইন মানলে পরিস্থিতি কত স্বাচ্ছন্দ্য হয়, যাতায়াত, চলাফেরা কত আরাম ও স্বস্তিদায়ক হয়। এই জন্যই ট্রাফিক পক্ষ পালন করছি।’

‘গত বছর আমরা দেখেছি, দায়িত্বহীন, জ্ঞানকাণ্ডহীন ও বেপরোয়া হয়ে দুই বাসচালকের বাস চালানোর কারণে দুই শিক্ষার্থীর জীবন দিতে হয়েছে। এরপর মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেসময় আমরা ট্রাফিক সপ্তাহ ও মাসব্যাপী ট্রাফিক অভিযান পরিচালনা করেছিলাম, মানুষ ব্যাপক সাড়া দিয়েছিল, তৈরি হয়েছিল সচেতনতা।’

সবাইকে আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাফিক আইন মানুন, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করবেন না, বেপরোয়া গাড়ি চালাবেন না, হেলেমেট ব্যবহার করুন, মোবাইলফোন খুবই গুরত্বপুর্ণ অনুষঙ্গ। কিন্তু মোবাইলফোনে কথা বলা অবস্থায় সড়ক পারাপার হবেন না ও গাড়ি চালাবেন না, নিকটস্থ ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসটি ব্যবহার করুন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাজধানীতে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করছে, নতুন নতুন ফুটওভার ব্রিজ হচ্ছে, সড়ক প্রশস্ত হচ্ছে। মাস র্যাপিড ট্রান্সজিট (এমআরটি) কাজ চলছে। এসব কারণে সড়কে গতিও কমেছে। যানজট সহনশীল রাখার জন্য বিরূপ আবহাওয়াতেও ট্রাফিকের সাড়ে ৪ হাজার সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হলে সড়কে যানজট থাকবে না। সড়কে শৃঙ্খলা দৃশ্যমান হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা রাজউক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিআরটিএ সড়ক বিভাগ মিলে কাজ করেছি। ইতোমধ্যে উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চলাচল কমে এসেছে। ১৩০টা বাসস্টপেজ চালু করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এসব আরও সুন্দর করার কাজ করছে। বাস মালিক, পথচারীদের সঙ্গে বসেছি।’

‘আমরা এবার ৫৭টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছি। ট্রাফিক সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগ করাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের আইন না মানার প্রবণতা বেশি। সুনাগরিক হিসেবে সবাই যদি আইন মানি তাহলেই কেবল সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব’-যোগ করেন ডিএমপি কমিশনার।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম, কৃঞ্চপদ রায়, মীর রেজাউল আলম, ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।