নিজের গায়ে আগুন দেয়া রিকশাচালক এখন শঙ্কামুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : অটোরিকশাচালক শামিম শিকদারের শরীরের ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলছেন, শামিম শিকদারের অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত।
শুক্রবার ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুলিশ জব্দ করে এবং ব্যাটরি খুলে নেয়। তিনি ব্যাটারি ফিরে পেতে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তার অনুরোধ না শুনে পুলিশ ব্যাটারি নিয়ে যেতে চাইলে শামিম শিকদার নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে ট্রাফিক বক্সের দায়িত্বরত সার্জেন্ট আমিনুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু চালক তা মানছে না। এজন্য ট্রাফিক পুলিশ শুক্রবার সকাল থেকে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় মহাসড়কে অটোরিকশার ব্যাটারি জব্দ শুরু করে। ব্যাটারি জব্দের সময় শামিম শিকদারের রিকশার ব্যাটারিও জব্দ করা হয়।’
তবে অভিযোগ আছে, মূলত অটোরিকশা আটকে চাঁদা দাবি করার কারণেই গায়ে আগুন দেন শামিম। কেউ কেউ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, গায়েআগুন দেয়ার আগে শামিম বলছিলেন- এর আগেও তার রিকশা আটক করে দুই হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এবারও টাকার জন্যই রিকশা আটক করা হয়েছে। এমনকি টাকা না পেয়ে কনস্টেবল মনির অটোরিকশার একটি লাইট লাঠির বাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। আর শামিমকেও তিনি লাঠি দিয়ে মারধর করেন। শামিমের অটোরিকশার সামনের লাইট ভাঙা দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ব্যাটারি না দেয়ায় শামিম রিকশা সেখানেই ফেলে রেখে চলে যান। গায়ে গামছা জড়িয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার হুমকি দেন তিনি। রিকশা ফেরত না দিলে আগুন ধরিয়ে মরে যাবেন একথা বলেন তিনি। তখন কনস্টেবল মনির তাকে দেয়াশলাই এগিয়ে দেন। শামিম সেই দেয়াশলাই দিয়েই নিজের গায়ে নিজে আগুন দেন। স্থানীয়রা প্রায় সাথে সাথেই পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে ফেলতে ফেলতেই তার মুখের ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।