নাহিদকে ‘ঠান্ডা’ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরামর্শ বি চৌধুরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘ভালো মানুষ’ হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্যতা তার নেই বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে নাহিদকে মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ঠান্ডা’ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে(ডিআরইউ) সোনার বাংলা পার্টি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সভায় এ আহ্বান বি. চৌধুরী নামে পরিচিত বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভাল লোক হওয়ায় তার (নাহিদ) পদত্যাগ চাই না। কিন্তু শিশু মন্ত্রণালয় আছে, ধর্ম মন্ত্রণালয় আছে, ঠান্ডা ঠান্ডা মন্ত্রণালয় আছে না… সেই ঠান্ডা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন।’

শিক্ষামন্ত্রীকে নিজে থেকেই তার পদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বি চৌধুরী বলেন, ‘একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের নায়ক কারা মন্ত্রী সাহেব কিছুই জানেন না। কিন্তু আপনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, সে দায়িত্ব আপনি পালন করেন নাই। আপনার কি সেই আসনে থাকার অধিকার আছে?’।

‘আপনি পদত্যাগ করবেন না, ঠিক আছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দায়িত্ব ছিল, দেশের ছেলে-মেয়েদের ধ্বংস হচ্ছে এই অযোগ্য লোককে মন্ত্রী বানিয়ে।’

‘লোকটা ভাল, শিক্ষিত, কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্যতা তার নাই।’

গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এক আলোচিত বিষয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসির প্রতিটি বিষয়ে এমসিকিউ পরীক্ষার প্রশ্নই আগেভাগে এসেছে সামাজিক মাধ্যমে। শিক্ষামন্ত্রী যতগুলো ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন, তার একটিও কার্কর প্রমাণ হয়নি। আবার প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণারও বাস্তবায়ন হয়নি।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। আর তিনি সরে না দাঁড়ালে তাকে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখেন তিনি।

সেদিনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘১০০ নম্বরের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পাস করার মতো প্রশ্ন থাকবে যাতে দুঃখ না থাকে যে ফেল করার মতো কঠিন প্রশ্ন আসছে। ৩৩ ভাগ দেন, যারা একটু ভাল পড়াশোনা করছে তাদের জন্য। আর ৩৩ শতাংশ দেন মেধা যাচাইয়ের জন্য, কঠিন প্রশ্ন।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই পচে গেছে মন্তব্য করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটার সার্জারি করা দরকার।’
‘অর্থমন্ত্রী অর্থনীতি ধ্বংস করেছেন’

এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও কড়া সমালোচনা করেন বি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উনি মনে করেন ব্যাংকের দায়িত্ব ব্যাংকারদের, চুরি করলে চোরের দায়িত্ব। আপনি ফাইন্যান্স মিনিস্টার, একদিন যদি আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়… অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়ে যায়।’

“অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ হয়ে স্টুপিড ও রাবিশের মতো ‘পেট ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যবহার করছেন। তিনি এক সময় ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিলেন। যে কোন কারণে হোক তিনি প্রশাসন চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। একটা ব্যাংকও ঠিকমত চলে না, দেখতে পারেন নাই, ধরতে পারেন নাই, শাস্তি দিতে পারেন নাই, কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন নাই।’

‘এরপরও যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে (মুহিত) ক্ষমা করে দেন… ক্ষমা করা উত্তম। কিন্তু উত্তমের পন্থা ছেড়ে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমাদের অর্থনীতি যেন একেবারে ধ্বংস না হয়ে যায়।’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দাবি

আলোচনায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবিও জানান বি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন করার পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে, এমন নির্বাচন দিতে হবে, সুষ্ঠু ভোট হতে হবে, ভোট গুণতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যত ভয়াবহ অন্ধকার।’

‘দেশের ৮৫ শতাংশ লোক সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুন্দর নির্বাচনের আবহ চায়। এর মাধ্যমে তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। সেই সুযোগ করে দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুন নূর, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।