নারী-শিশুর সহায়তায় হেল্পলাইন ‘১০৯’

ডেস্ক রিপোর্ট : বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন নীলিমা(ছদ্মনাম)। সকাল ৮টায় অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। সহজে মেলে না কোন গণপরিবহন। এরমধ্যে ভাগ্যক্রমে পেয়ে যান একটি সিএনজি। কিছুদুর যেতেই সিএনজি চালকের টালবাহানা শুরু। চাহনিটাও কেমন যেন বাঁকা। যে রাস্তায় যাওয়ার কথা, চালক সে রাস্তায় না গিয়ে অন্য রাস্তায় যেতেই ভয়টা চেপে বসে নীলিমার। এসময় ঢাকার একটি নির্জন রোডে সিএনজি দাঁড়ায়। চালক বলেন, তার অটোরিকসাতে নাকি সমস্যা হয়েছে। সিএনওজি চালকের একথা শুনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন নীলিমা। বিপদেপড়ার আশঙ্কা থেকেই ফোন দেন ১০৯ নম্বরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নীলিমার অবস্থানে পৌঁছে যায় নিরাপত্তা বাহিনী। নারীদের যেকোন বিপদে এভাবেই তাৎক্ষণিক সেবা দিচ্ছে ন্যাশনাল হেল্পলাইন লাইন নম্বর ‘১০৯’।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আঙ্গিনায় বসেছে নারী উন্নয়ন মেলা। মেলায় নারীদের নিরাপত্তায় একটি স্টলে সাজিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম। ওই স্টল থেকে জানানো হচ্ছে ১০৯ নম্বর ডায়াল করে বিপদের সময় কীভাবে নারী ও শিশুরা সাহায্য পেতে পারেন।

ন্যাশনাল হেল্পলাইন সার্ভিস প্রোভাইডার ফাতেমা হক জানান পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এখন সবকাজে সরব অংশগ্রহণ করছে। তাই নারীদের নিরাপত্তা দেয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের যেকোন প্রান্তে নারী ও শিশুদের যেকোন সমস্যায় যেকোন ফোন থেকে ১০৯ এ ফোন করা যাবে। এমনকি মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকলেও অথবা টিএন্ডটি থেকে এই নম্বরে কল করা যাবে। আমরা ২৪/৭ এই সেবা প্রদান করে থাকি। ৪০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা এই সেবা দেয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।

ফাতেমা হক জানান, দেশের যেকোন প্রান্তে বাল্য বিবাহ রোধ করতে এই নম্বরটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। যে কেউ আমাদের বাল্য বিবাহের তথ্য দিতে পারেন। পুলিশি ও আইনি সহায়তা, মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন, সেফ কাস্টডি/ শেল্টার হোম, সামাজিক পূণঃএকত্রিকরণ, স্বাস্থ্য সেবা এবং ডিএনএ পরীক্ষার সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়া আমাদের সেবায় যুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সেবার ক্ষেত্র আরো বাড়ানো হবে।

যাদের স্মার্টফোন রয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে অ্যাপভিত্তিক সেবা। প্লেস্টোর থেকে জয় অ্যাপটি নামিয়ে ইন্সটল করতে হবে মোবাইলে। অথবা https://goo.gl/icKTXp এই লিঙ্ক থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। অ্যাপটি ইন্সটল করার পর অ্যাপটি আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা, ভয়েস রেকর্ডার, কনটাক্টসহ অন্যান্য এক্সেস পাওয়ার জন্য অনুমতি চাইবে। অনুমতি দিয়ে ‘পরবর্তী’ অপশনে যেতে থাকলে অ্যাপটি আপনার সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইবে। আপনার নাম(বাধ্যতামূলক), ইমেইল এড্রেস এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার প্রদান করে পরবর্র্তী ধাপে যেতে হবে।

এ ধাপে আপনাকে চার ডিজিটের একটি পিন দিতে হবে (গোপনীয়)। আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপে গেলেই আপনার অ্যাপ রেডি। আপনি একটি এসএমএস পেয়ে যাবেন। এরপর যেকোন জরুরি অবস্থায় ‘পরবর্তী’ পদক্ষেপে গেলে জরুরি বাটন পাবেন। এখানে আপনি তথ্য সংরক্ষণ করতে চান কি না এ ব্যাপারে জানা হবে। পরবর্তীতে ‘জরুরি অবস্থা’ লাল বাটনে প্রেস করলে আপনি পুলিশি সহায়তা চান কি না জানতে চাওয়া হবে। আপনি সম্মতি দেয়ার পর আপনাকে ‘২৪০’ সেকেন্ডের একটি সময়সীমা দেয়া হবে।

এর মধ্যে আপনি ১০৯ থেকে একটি এসএমএস পাবেন। এই অ্যাপে আপনি তিনটি নম্বর এফএনএফ লিস্টে যোগ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে অ্যাপটি ৫০০ এর বেশি ডাউনলোড হয়েছে এবং অ্যাপটির রেটিং ৫।