নারী পোশাককর্মী খুন, স্বামীকে গ্রেপ্তারে ওসিসহ আহত ৫

জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরে পোশাককর্মীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করতে গেলে উত্তেজিত জনতার হামলায় আহত হয়েছেন মেলান্দহ থানার ওসিসহ পাঁচজন। হামলার সময় ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের পিকআপ। লাঞ্ছিত হয়েছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
আজ রবিবার দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠের কলাবাঁধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কলাবাঁধা গ্রামে স্বামীর বাড়ির পুকুর থেকে মিনা বেগম (২৯) নামের এক পোশাককর্মীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। পরে মিনার স্বামী মৃনাল হককে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা।
দুপুরে মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মৃণালকে আটক করতে গেলে উত্তেজিত জনতার হামলার শিকার হন তারা। এ সময় ওসিসহ পাঁচ পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে জনতা। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেকুজ্জামান জুবেরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর থানার পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মৃণালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় কলাবাঁধা গ্রামে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কলাবাঁধা গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে মো. মৃণাল (৩৩) তার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মিনা বেগমকে তিন দিন আগে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রাখে। তাদের দুই সন্তান নানার বাড়িতে ছিল। রোববার সকালে মৃণাল তার শ্বশুরবাড়ি চারিয়াপাড়া গ্রামের ময়নাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে জানান মিনাকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শ্বশুরবাড়ি ও গ্রামের লোকজনের সন্দেহ হলে মৃণালকে আটক করে তারা। জিজ্ঞাসাবাদে মৃণাল স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে রাখার কথা জানালে গ্রামের লোকজন তাকে পিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার ও আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপর আক্রমণ করে।
মিনা বেগম নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। কী কারণে তাকে হত্যা করেছেন মৃণাল তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
মেলান্দহ থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।