নারীর আত্মরক্ষার ৫টি কৌশল

এদেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পেশাদারী ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। স্বাভাবিকভাবেই একজন পেশাজীবী নারীর বিচরণ সময়ের সাথে বিস্তৃত হতে থাকে। চাকরী পাওয়ার আগে হোক কিংবা পরে, কাজের প্রয়োজনে তাকে সকাল-সন্ধ্যা ছুটতে হয় অফিস থেকে অফিসে। অফিসের এই কর্মব্যস্ততায় সহকর্মীদের মাঝে, যাতায়াতের সময় গাড়িতে বা রাস্তাঘাটে সে কতটা নিরাপদ এটাই এখন ভাববার বিষয়।

এদেশের নারীদের জন্য পথে-ঘাটে বখাটেদের দ্বারা উত্যক্ত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়; বিশ্বাস না হলে আপনার পরিচিত কোন নারীর সাথে সামান্য দুরত্ব বজায় রেখে ব্যস্ত রাস্তায় হাটলে দেখতে পাবেন আশপাশ থেকে কত ধরনের বাজে মন্তব্য কানে ভেসে আসছে। অনেকে চোখ বুঝে এসব সহ্য করে যায়, কেউ কেউ তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করে, সে প্রতিবাদে যোগ দেয় উপস্থিত সচেতন মানুষেরাও। কিন্তু সব সময় এরকম সাপোর্ট পাওয়া যায় না। সপ্তাহ খানেক আগে একটা ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। চাকুরীর সন্ধান করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রী রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত এক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের কর্তৃক শ্লীলতাহানীর শিকার হন। কৌশলে সেই ম্যানেজারের কবল থেকে পালিয়ে আসতে পারলেও সেই ঘটনার বর্ননা থেকে এটাই বুঝা যায় যে এদেশের নারীদের নিরাপত্তা এবং সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে যথেষ্ঠ ব্যবধান রয়ে গেছে। দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী এর বিরুদ্ধে কাজ করছে সত্য কিন্তু একজন নারী কখন এরকম পরিস্থিতে পড়ে যাবে তা কেউ জানে না আর তখন সাহায্য প্রার্থনা করে আদৌ সাড়া পাওয়া যাবে কি না তারও কোনো ভরসা নেই।

তাহলে কি করবেন? উত্তর একটাই,আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে সর্বাবস্থায়। এই প্রস্তুতি টা আসলে মানসিক। কারণ যেখানে সব জোর বা শক্তি ব্যর্থ হয় সেখানে উপস্থিত বুদ্ধি আপনাকে রক্ষা করতে পারে। ইউটিউবে ঘন্টার পর ঘন্টা “সেলফ ডিফেন্স” এর ভিডিও দেখে শুধু আপনার সময়টাই নষ্ট হবে যদি না আপনি কালেভদ্রেও সেই মুভ গুলো অনুশীলনই না করেন। যা হোক, শ্লীলতাহানীর এরকম কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে কোনঠাসা করার চেষ্টা করা হলে একজন নারী হাতের কাছে যা পাবেন তা দিয়েই আক্রমণকারী কে পরাস্ত করতে হবে। এরকম কিছু টিপস বেঙ্গল বিটস আপনাকে দিচ্ছে যেগুলো আপনার কাজে লাগতে পারে।

১. জুতার হিল দিয়ে কাহিল করুন
যে আপনাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে তার পায়ে আপনার হিল দিয়ে পায়ের পাতা থেতলে দিন। আর যদি সেই লোকের পায়ে শু থাকে তাহলে হিলের জুতা খুলে আঘাত করুন তার মুখে। এতে আপনি তার কাছ থেকে নিরাপদ দুরুত্বে সরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

২.কলম আর পেন্সিল আপনার নিরাপত্তায় অস্ত্রের শামিল
মনে রাখবেন জন উইক একটা্মাত্র পেন্সিল দিয়েই তিন জন কে ঘায়েল করেছিলো। কলম পেন্সিল আপনার নাগালেই পেলে আক্রমণকারী কে ঘায়েল করতে দেরি করবেন না।এটা আপনার সেলফ ডিফেন্স এ কাজে লাগবেই।

৩.পেপার ওয়েইট শুধু সাজিয়ে রাখার জন্য নয়
বিপদের সময় পেপার ওয়েইট দিয়ে আপনি আক্রমণকারী কে ঘায়েল করতে পারেন।অনেক সময় দরজা লক করে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এর চেষ্টা করে এসব নরপশুরা। তখন দরজা ভাংতেও এমন ভারী বস্তু ব্যবহার করতে পারেন।

৪. লংকা স্প্রে দিয়ে এখনকার রাবণকে পরাস্ত করুন
পারফিউম সবার কাছেই থাকে। ইউটিউব থেকে ভিডিও এর সাহায্য নিয়ে নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারেন “পেপার স্প্রে” বা মরিচের গুড়ার স্প্রে।আক্রমণকারী ব্যাক্তির দিকে স্প্রে মারতে পারলেই হলো।দুই তিন মিনিট আর সে তাকাতে পারবে না,তখনই আপনি পালানোর সুযোগ পাবেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে নারীরা ব্যাগে রাখতে ভুলেন না এই বিশেষ স্প্রে।

৫. হেয়ার ক্লিপ,আলপিন,সেইফটি পিন আরো কত কি
আসলে আপনার দরকারে কোন বস্তু কাজে আসবে তা সময়ই বলে দিবে। সেইফটি পিন এর মতো তুচ্ছ জিনিসও বিপদের সময় আপনাকে সাহায্য করবে।তাই চোখ –কান খোলা রাখবেন,উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগাবেন।