নানা সংকটে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ

শিক্ষায় অবহেলিত হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় গত তিন দশক ধরে নারী শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। জেলার কয়েকজন মহিয়সী শিক্ষানুরাগী নারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৬ সালে শহরের বাধঁন পাড়ায় দেড় একর জায়গা নিয়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭ সালের ৬ এপ্রিল কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়। সময়ের দাবীতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংঘটনের আন্দোলনের ফলশ্র“তিতে ২০১১ সালে কলেজটিতে স্নাতক (পাস) কোর্স চালু করা হয়। মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে নারী শিক্ষার উচ্চ শিক্ষার এ বিদ্যাপীঠে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ে প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

আজ কলেজটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যার তালিকাটি অনেক র্দীঘ। এরমধ্যে আবাসন, একাডেমিক ভবন, শিক্ষক স্বল্পতা অন্যতম। কলেজে ৫২ জন শিক্ষকের প্রয়োজন সেখানে আছেন মাত্র ১০জন।ডিগ্রি কোর্স চালু হলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ভূগোল, মনোবিজ্ঞান, দর্শন, সমাজ বিজ্ঞান, অর্থনীতি বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের পদ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ের শিক্ষক পদায়ন করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে একটি ফাইল শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে র্দীঘদিন ধরে জমা আছে। পাশাপাশি শূন্যপদে মনোবিজ্ঞান, রসায়ন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান ও ভূগোল ও আবশ্যিক বিষয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজের শিক্ষকের উপর শরনাপন্ন হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ ও শিক্ষক স্বল্পতার কারণে জেলার একমাত্র মহিলা কলেজেটি কাঙ্কিত ফলাফল করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কলেজে অনার্স, ডিগ্রি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র থাকায় সারা বছরই শিক্ষকবৃন্দ পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকায় পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বিঘ্ন ঘটছে। লোকবলের অভাবে কলেজ অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমও বিঘ্ন ঘটছে। অফিস স্টাফে যেখানে ৭জন লোকের প্রয়োজন সেখানে আছেন মাত্র দুজন। নেই একাউন্টেন্ট, কম্পিটার অপারেটর, লাইব্রেরিয়ান, শরীর চর্চার শিক্ষক।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর পরাগ কান্তি দেব দৈনিক শিক্ষাডটকম কে জানান, কলেজের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা রাতারাতি হয়ত সমাধান করা যাবে না। এখন দ্রুত গতিতে শূন্য পদে শিক্ষক পদায়ন ও জনস্বার্থে সৃষ্টপদে সংযুক্তিতে প্রতি বিভাগে কমপক্ষে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ হলে কলেজের সমস্যা কিছুটা নিরসন হবে।

এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় সাংসদ জনাব পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও সুনামগঞ্জের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ব্দুল মান্নানের সুদৃষ্টি কামনা করছি, বলেন কলেজ অধ্যক্ষ।

জেলার সুধীজন ও শিক্ষার্থীদের অভিবাকদের প্রত্যাশা জেলার একমাত্র মহিলা কলেজটিকে শ্রীঘ্রই শিক্ষক সংকট সহ সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধানকল্পে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিবেন। পাশাপাশি কলেজটিকে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর ব্যপারে জোড়ালো প্রচেষ্টা গ্রহন করবেন।