নাদিয়া হোসেন এখন বাংলাদেশের গর্ব

ডেস্ক রিপোর্ট : দ্য ব্রিটিশ বেক অব’ খ্যাত বাঙালি কন্যা নাদিয়া হোসেন আবারও বিবিসিতে হাজির হচ্ছেন খাদ্যবিষয়ক নিজস্ব প্রামাণ্য অনুষ্ঠান নিয়ে। ‘নাদিয়া’স ব্রিটিশ ফুড অ্যাডভেঞ্চার’ শীর্ষক ৮ পর্বের এ অনুষ্ঠানটি ঠিক কবে থেকে দেখানো হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। কেবল ৩০ সেকেন্ডের একটি ট্রেলার ছাড়া হয়েছে। তাতেই রীতিমতো তাক লাগানো সাড়া পড়ে গেছে।
বলা হচ্ছে, এটিই হতে যাচ্ছে নাদিয়ার এ যাবৎ সেরা কিছু্। এর আগে বিবিসির জন্য দুই পর্বের এক প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশে নিজের শিকড়ের গল্প তুলে ধরে উপস্থাপনায় নিজের মুনশিয়ানার পরিচয় দেন এই রাঁধুনি কন্যা।
২০১৬ সালে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মদিনের কেক বানিয়েছেন। খাদ্যবিষয়ক তার একাধিক বই বেরিয়েছে। লিখেছেন শিশুদের জন্যও। টিভিতে তার সরব উপস্থিতি। নিয়মিত লেখেন টাইমস, গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে।
লুটন শহরে জন্ম নেয়া নাদিয়ার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামে। বাবা জমির আলী ব্রিটেনে আসেন ১৯৭০ সালে। জমির ও আসমা দম্পতির চার মেয়ে, দুই ছেলের মধ্যে নাদিয়া তৃতীয়। স্বামী আবদাল হোসেন ও তিন সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের অদূরে মিলটনকিন্স শহরে নাদিয়ার বর্তমান বসবাস।
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ বা আগস্টের শুরু থেকে বিবিসি-২-তে ‘নাদিয়া’স ব্রিটিশ ফুড অ্যাডভেঞ্চার’ প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে। এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সম্ভার তুলে ধরতে নাদিয়া ছুটে গেছেন স্কটল্যান্ডের পাহাড়চূড়া থেকে ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার সমুদ্রসৈক পর্যন্ত। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক রুচির মিশেল খাবারগুলোকে কীভাবে বৈচিত্র্যময় করে তুলল, থাকবে সেই গল্প। নাদিয়া নিজেই পাকা রাঁধুনি। তাই তিনি এসব খাবার নিজস্ব রেসিপি দিয়ে রান্না করে দেখাবেন বিবিসির দর্শকদের।
৩০ সেকেন্ডের ট্রেলারে উপস্থাপক নাদিয়াকে দেখা যাচ্ছে সাবলীল, আত্মবিশ্বাসী আর চিরায়িত চনমনে ভঙ্গিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমগুলো নাদিয়ার উপস্থাপনাশৈলীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
কারও কারও মন্তব্য, নাদিয়া কেবল পাকা রাঁধুনি নন; উপস্থাপনায়ও তিনি অন্যতম।
শুক্রবার ‘দা সান’-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া তার নতুন টিভি অনুষ্ঠান ও বদলে যাওয়া জীবনের নানা গল্প তুলে ধরেন। নিয়মিত
হিজাব পরে অভ্যস্ত নাদিয়া মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের শিকার হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। গণমাধ্যমগুলোতে আমরা এমন কিছু শুনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন কিছু ঘটছে, যা আমার হৃদয়কে চুরমার করে দেয়।
নাদিয়া বলেন, আমি ব্রিটিশ, আমি মুসলিম এবং আমি বাংলাদেশি। আমি অনেক কিছুর অংশ।
তিনি বলেন, আমি ব্রিটিশ কিনা, এমন জিজ্ঞাসা শুনতে শুনতে রীতিমতো বিরক্ত। আবার পরক্ষণেই নিজের কাছে প্রশ্ন করি, ‘ব্রিটিশ’ আসলে কী? ‘ব্রিটিশ খাবার’ই বা কী?
তার নতুন টিভি অনুষ্ঠানটি খাবারের গল্পের মধ্যদিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়ক হবে বলে জানান নাদিয়া।
নাদিয়া বলেন, এ অনুষ্ঠানের জন্য তিনি খাবারের উদ্ভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা কারণে যুক্তরাজ্যে এসে বসতি গড়েছেন। তারা ব্রিটিশ। কিন্তু তারা নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে ভিন্ন কিছুর সৃষ্টি করেছেন, যা অসাধারণ।
২০১৫ সালে বিবিসির রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অব’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাক লাগিয়েছিলেন তিন সন্তানের এই জননী। পুরস্কার হাতে অশ্রুভরা চোখে বলেছিলেন, আর জীবনে কখনো নিজেকে কোনো সীমায় আবদ্ধ রাখব না।
দুই বছর পরও নাদিয়া তার সেই প্রতিজ্ঞার মতোই সমুজ্জ্বল।
আর ভবিষ্যৎ? তা আরও চমৎকার। বিবিসির ‘দ্য বিগ ফ্যামিলি কুকিং শো ডাউন’ উপস্থাপনায় ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চলতি বছরই যাচ্ছেন হজ নিয়ে দুই পর্বের একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতে। আর ১৩ জুলাই বাজারে আসছে নতুন রেসিপি বই ‘নাদিয়া’স ব্রিটিশ ফুড অ্যাডভেঞ্চার। বিবিসির অনুষ্ঠানের নামেই বইটির নাম।
বিবিসির ‘দ্য ব্রিটিশ বেক অব’ অনেকেই জিতেছেন। কিন্তু বাঙালি কন্যা নাদিয়ার মতো গৃহিণী থেকে তারকা বনেছেন’ এ রকম আর কে আছেন? তাই তো নাদিয়া সব নারীর জন্য অনুপ্রেরণার এক উৎস।