নাজিম হত্যায় জগন্নাথে দিনভর বিক্ষোভ, ধর্মঘটের ডাক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা, যিনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুরে তাকে হত্যা করা হয়।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গুলিস্থান থেকে সদরঘাটমুখী রাস্তা অবরোধ করে চার ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখানোর পর এই কর্মূসচি ঘোষণা করা হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম অনীক বলেন, “এই ঘটনার পর প্রশাসন কী ব্যাবস্থা নেবে- তা আমরা আজ ভিসির কাছে জানতে চাইব। আর আগামীকাল বিকালে আমাদের সংহতি সমাবেশ হবে।”

২৭ বছর বয়সী নাজিমুদ্দিন সামাদ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার সময় সূত্রাপুরের একরামপুরে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এস কে শুভ বলেন, “আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় শাহবাগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।”

শনিবারের মধ্যে খুনীরা গ্রেপ্তার না হলে রোববার ‘সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট’ পালন করা হবে বলে জানান এ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সুজন দাস অর্ক।

নাজিমের ফেইসবুক পাতায় লেখায় উগ্রবাদীদের সমালোচনা দেখা যায়। তিনি নিজের পরিচয়ে লিখেছেন, নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের অনুসারী নন তিনি। সাম্প্রতিক সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েও লিখেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই সমর্থক নিজের দলের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি।

গত ২ এপ্রিল এক পোস্টে নাজিম আওয়ামী ওলামা লীগ নিয়ে লেখেন, “আওয়ামী ওলামা লীগ আর বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দুই বিপরীত মেরুর দুই বাসিন্দা। ওলামা লীগ কখনোই বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান চায়নি এবং চাইবে না।”
একদিন আগেই এক মাওলানার ‘নারীবিদ্বেষী’ ওয়াজের ভিডিও শেয়ার করে তার সমালোচনাও করেছিলেন নাজিম।

নাজিম হত্যার প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একাংশ। সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।

পরে বেলা ১২টার দিকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনের অবস্থান নিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

বিক্ষুব্দ এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছে অথচ এখনো খুনীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা মেনে নিতে পারি না।”

প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কোন বিবৃতি দেয়নি, বিচারের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি নিন্দনীয়।”

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে পুরান ঢাকার ইসলামপুর, বাংলাবাজার, বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থঅকে প্রায় চার ঘণ্টা। গোলযোগ এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ।