নাগরিক সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় তা উদযাপন করতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বেলা আড়াইটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে প্রবেশের জন্য মোট পাঁচটি গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশের গেটটি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া জনসভায় আসা মানুষের জন্য খোলা থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পাশের গেট, তিন নেতার মাজারের পাশের গেট, রমনা কালী মন্দিরসংলগ্ন গেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বিপরীত দিকের গেট।

নাগরিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। এছাড়া থাকবে বোম্ব ডিসপজল ইউনিট ও সোয়াট টিমের সদস্যরা। নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, অন্য যে কোনো সমাবেশের মতই নাগরিক সমাবেশে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার জানান, নাগরিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশালাকৃতির নৌকার ওপর তৈরি করা হয়েছে সমাবেশের মঞ্চ। মঞ্চের সামনে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বসবেন। তারপর বাঁশের তৈরি বেড়ার পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে ২৫ হাজার চেয়ার। পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে জনতার জন্য সুন্দরভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সমাবেশে আসা কেউ যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সেজন্য সমাবেশস্থলে চিকিৎসক প্রতিনিধিদল থাকবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কৃত্রিম লেকে শোভা পাচ্ছে পাটবোঝাই পাল তোলা নৌকা। আর নৌকার পালে থাকবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বিভিন্ন অংশ।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সমাবেশ। তারপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হবে। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন কবি নির্মলেন্দু গুন। তিনি পাঠ করবেন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে নিয়ে তার নিজের লেখা কবিতা, ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো।’

নাগরিক সমাবেশের আহবায়ক অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।