নাঈম আশরাফের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

রাজধানীর বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি নাঈম আশরাফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ, যাকে গতকাল রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে হাজির করে তার রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের উপ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি জানান, দুপুরের দিকে নাঈম আশরাফকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

নাঈম আশরাফকে কোথায় রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে চাননি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে নাঈমকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা করেন দুই তরুণী। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলো- আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ সাফাত আহমেদের জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে তাদের বনানীর ‘কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনায় সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। এছাড়া অন্য দুইজন এই কাজে সহযোগিতা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার পাঁচদিন পর ১১ মে রাতে সিলেট থেকে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর গত সোমবার মামলার আরও দুই আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও তার দেহরক্ষী রহমত আলীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ও ডিবি। পরে তাদেরও রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলার আরেক আসামি নাঈম আশরাফকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর পর গতরাতে তাকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের হালিম ঢাকায় নাঈম আশরাফ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর প্রকাশ পায়।