নত্যৃগুরু বাদলকে কবিদের সংবর্ধনা

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদলকে কবিদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হওয়ায় কবিদের সংগঠন ‘কবিকুঞ্জ’ তাকে এই সংবর্ধনা দেয়।

কবিকুঞ্জের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার চত্বরে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কবিকুঞ্জের সভাপতি কবি রুহুল আমিন প্রামানিক নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানের অতিথি অর্থনীতিবিদ প্রফেসর সনৎকুমার সাহা নৃত্যগুরুকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। আর কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তার হাতে তুলে দেন সংবর্ধনা ক্রেস্ট।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। বজলুর রহমান বাদলকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নৃত্য শুধু মনোরঞ্জনের বিষয় না, নৃত্য মানুষকে জাগ্রতও করতে পারে। আমার মনে আছে, অনেক দিন আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে এক জনসভায় বিদ্রোহী কবির কবিতায় নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন বজলুর রহমান বাদল। সে নৃত্য ছিল দেশের জন্য। আজ দেশ তাকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। এই পদক তো তারই প্রাপ্য।’

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি বলেন, যার স্বাধীনতা পদক পাওয়ার কথা, তিনিই এ পদক পেয়েছেন। তার এই পদকে রাজশাহীবাসী গর্বিত। বজলুর রহমান বাদলকে স্বাধীনতা পদক দিয়ে সরকার শিল্পের মূল্যায়ন করেছে।

সংবর্ধনা পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে নৃত্যগুরু বজলার রহমান বাদল বলেন, রাজশাহীর একজন বাসিন্দা হিসেবে স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় এর দাবিদার রাজশাহীর সব মানুষ। তিনি সারাটা জীবন অপেক্ষা করেছেন এই পদকের জন্য। এই পদক পাওয়ায় তার জীবন স্বার্থক হয়েছে। কবিকুঞ্জের দেওয়া সংবর্ধনা সে পদককে আরও উজ্জ্বল করল বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন প্রমূখ। সভাপতিত্ব করেন কবিকুঞ্জের সভাপতি কবি রুহুল আমিন প্রামানিক।

সংবর্ধনা শেষে সেখানে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এর আগে কবিকুঞ্জ প্রকাশিত একটি পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।