নতুন কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধন করেছে হাসিমুখ

‘স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আমাদের দৃঢ় পদচারণা’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হল হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার নতুন তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের। এমল্যাব, বাংলাদেশ আইসিটি ডিভিশন, এমসিসি এবং এক্সিম ব্যাংক- এর সহযোগিতায় ১৩ জানুয়ারি, শনিবার বেলা তিনটায় নতুন এ তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসিমুখ স্কুলের শিক্ষার্থী, ভলান্টিয়ার এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা এবং কেক কেটে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ। এ সময় এমল্যাব ও এক্সিম ব্যাংক-এর দুজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার সাহা এবং এমসিসি’র সিইও আশরাফ আবীরেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পেশাগত কর্ম ব্যস্ততার কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি। তবে ফোন করে তারা হাসিমুখের নতুন এ তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার গর্বিত সাধারণ সম্পাদক নুসরাত একা। সূচনা বক্তব্যে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে সংস্থাটির আদ্যপান্ত তুলে ধরেন। তুলে ধরেন কবে থেকে এবং কীভাবে হাসিমুখের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ও পথচলা শুরু। পাশাপাশি হাসিমুখের অন্যান্য দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কে, কখন, কীভাবে সংস্থাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন সেসবও তিনি তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সমাজে অনেক অবহেলিত শিশু আছে যারা পড়াশোনা করছে না বা করতে পারছে না। কিন্তু এখন তাদের মাঝে একটা ইচ্ছা জাগছে। এই ইচ্ছাটা তাদের মাঝে জাগিয়ে তুলছে হাসিমুখের মতই কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জীবনে তারা কতদূর যাবে বা যেতে পারবে কেউই বলতে পারে না। কিন্তু হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা তাদের মাঝে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার যে ইচ্ছা ও স্বপ্ন জাগাচ্ছে, এটাই অনেক বড় একটা ব্যাপার।’

হাসিমুখের স্বেচ্চাসেবকদের এই কাজকে নেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজের লাখো তরুণ সমাজ যেখানে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যে ডুবে দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে, হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা সেখানে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার নেশায় মেতে উঠেছে।’ তিনি এই নেশাটাকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরামর্শ দেন, কীভাবে কাজ করলে হাসিমুখ আরও এগিয়ে যেতে পারবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সব সময় হাসিমুখের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।

গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে পথশিশুদের শিক্ষা ও বিভিন্ন অধিকার নিয়ে কাজ করছে হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা। নতুন তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকেও এবার এক ধাপ এগিয়ে দিল সংস্থাটি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি থেকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি কারিগরি জ্ঞানেও নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারবে।

কয়েক মাস আগে ছোট্ট পরিসরে শুরু হওয়া হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি এখন ফুলেফেঁপে বড় হয়েছে। তখন মাত্র ছয়টি ল্যাপটপ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল ল্যাবটির। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে সেখানে যোগ হয়েছে আরও আটটি নতুন ল্যাপটপ। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে বর্তমানে মোট ১৪টি ল্যাপটপ রয়েছে ল্যাবটিতে।

কম্পিউটার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল বাংলাদেশের আগামীর স্বপ্ন হিসেবে গড়ে তুলতে এই আইসিটি কেন্দ্রটির দায়িত্বে আছেন সংস্থাটির দুই ভলান্টিয়ার রিশাদ রেজওয়ান ও মাহবুবুর রহমান মিশাল। আরও আছেন সুপ্রশিক্ষিত এক দল আইসিটি প্রশিক্ষক। তারা গত কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের আইসিটি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ‘হাসিমুখ’ নামে একটি স্কুল পরিচালনা করে হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা। রাজধানীর পরিবাগের ওয়াবদা অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনের রাস্তা দিয়ে গেলেই চোখে পড়বে স্কুলটি। ঘড়ির কাটায় বিকাল চারটা বাজলেই সেখানে রাস্তার উপর চট ফেলে বসে পড়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক কচিমুখ। আর তাদের মাঝে শিক্ষার বীজ বুনে দিতে নিজেদের কাজ ফেলে শুক্রবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিনই হাজির হন জুলকার, মিনা, রেশমী, হাশেম, নিজাম, সীমা ও রিশাদের মত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।