‘ধড় থেকে মুণ্ডু খসানোর’ নীতি নিয়েছে সরকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির প্রতি সরকার ‘ধড় থেকে মুণ্ডু খসানোর’ নীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করে খাল, বিল, নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে চলে যেতে বলে পেছন থেকে গুলি করা হয়। তা না হলে কিছুদিনের জন্য অথবা চিরদিনের জন্য গুম করে অদৃশ্য করা হচ্ছে। এছাড়া লকআপে চলানো হয় অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন।’

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও কারণ ছাড়াই কাল্পনিক মামলার বন্যায় দেশকে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার শিকার। কোনও কারণ ছাড়াই কাল্পনিক মামলার বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে দেশকে।’

‘কর্কশ কড়া নাড়ার শব্দে খানখান হয় রাতের নিস্তব্ধতা’

সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, এই কোনও ওয়ার্ডেই তিনজন নেতাকর্মী একসাথে চলাফেরা করতে পারছে না। এর ওপর ক্রমাগত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ির সামনে রাতের অন্ধকারে এসে থামে কালো গ্লাস দিয়ে ঢাকা মাইক্রোবাস। কর্কশ কড়া নাড়ার শব্দে ভেঙেচুরে খানখান হয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতা। বাসাবাড়ি তছনছ করে চলে চিরুনী তল্লাশি। তুলে নিয়ে যায় কিশোর, তরুণ, ছাত্রদল, যুবদল এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এমনকি রেহাই পান না বয়স্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও।’

‘মুফতি হান্নানকে দিয়ে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিষয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মামলায় কয়েক দফা চার্জশিট দেয়া এবং বিচার কার্য অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর বিচারিক আদালত থেকে চার্জশিট ফিরিয়ে এনে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হয়; যা ছিল বেআইনী ও নজীরবিহীন।’

‘এটি করার উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মামলায় জড়ানো। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল মুফতি হান্নানকে দিয়ে আদালতে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু। এই আসামিদের সবার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

১৪ বছর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এই মামলার রায় ঘোষণা হবে ১০ অক্টোবর। এই রায়কে ঘিরে বিএনপিতে উদ্বেগ স্পষ্ট। এরই মধ্যে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারেক রহমানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে দেশবাসী তা মেনে নেবে না।

গতকাল বুধবার বিএনপির কর্মসূচি পালনকালে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের কয়েকটি জেলায় নেতাকর্মীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জে মিছিল পণ্ড করে দিয়েছে। পাইকারি হারে গ্রেপ্তার এবং আক্রমণে অনেক নেতাকর্মীকে আহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, বেলাল হোসেন প্রমুখ।