ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত স্থানীয় একটি দৈনিকের শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি ও হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেনের উপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তার ডান পা ভেঙ্গে দিয়ে মৃত ভেবে হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র।

মঙ্গলবার (৭ মে) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ফেরার পথে উপজেলার জয়পুর ও নিয়ামতপুর গ্রামের মধ্যবর্তী হাওরের নির্জন স্থানে তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই রাতেই আশংকাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার সদর থেকে বাড়ি যাবার পথে গোপাল রায়ের নেতৃত্বে হামলার জন্য দূর্বৃত্তরা জয়ন্ত সেনের পিছু নিলে তিনি পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ, ওসি আশরাফুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে বিষয়টি অবহিত করেন। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক শামস শামীম সাথে সাথে শাল্লা থানার ওসিকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি অবগত করে এবং জযন্ত সেনকে নিরাপত্তা প্রদানের অনুরোধ করেন।

হামলার ব্যাপারে জয়ন্ত’র পরিবারের লোকজন মঙ্গলবার রাতে জানান, সন্ধ্যার পূর্বে এলাকার গোপাল রায়, রিংকু রায়, ইন্দ্র রায়সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জয়ন্ত সেনের বাড়ি ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে দূর্বৃত্তদের ভয়ে জয়ন্ত সেন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জে যাবার পথে ফের ওৎ পেতে থাকা দূর্বৃত্তরা নিয়ামতপুর ও জয়পুর নামক স্থানে তার পথরোধ করে বেধড়ক মারধর করে তার ডান পা ভেঙ্গে দেয়।

মাথা, গলা, কাধ ও বুকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় দূর্বৃত্তরা গোপালের নেতৃতে হামলার পর তাকে মৃত ভেবে হাওরের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়। এলাকার লোকজন বাড়ি আসার পথে তাকে সংজ্ঞাহীন দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হামলাকারীরা জয়ন্তর ব্যবহৃত লেপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন ও বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নগদ ২০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে জানান জয়ন্ত সেনের পরিবার।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের গোপাল রায় এলাকার এক হতদরিদ্র শিশু কন্যাকে কয়েক মাস আগে ধর্ষণের চেষ্টা করলে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জয়ন্ত সেন একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। গোপালের ভয়ে পরে ওই শিশুকন্যাকে অন্যস্কুলে ভর্তি করান অসহায় পিতা। এ ঘটনায় সাংবাদিক জয়ন্ত অসহায় ওই শিশু কন্যা ও তার পরিবারের স্বপক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্দ হয় গোপাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

গত ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন স্কুলের ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট দিলে প্রশাসন গোপালকে গ্রেপ্তার করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়াও গোপাল গ্রামের স্কুলের জায়গা দখল করেও স্থায়ী বসতঘর নির্মাণ করায় সাংবাদিক জয়ন্ত সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন এমন আশংকা থেকেও তাকে হত্যার উদ্দেশেই ওই হামলার ঘটনাটি ঘটিয়ে বলে সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, পরবর্তীতে একই গ্রামের রিংকু রায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ালে সাংবাদিক জয়ন্ত কিছু দিন আগে শাল্লা থানার ওসিকে অবহিত করেন। ওই ঘটনায় গোপাল রায় পূর্বের সংবাদ প্রকাশের জের মেটাতে রিংকু রায়কে প্রভাবিত করে সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের উপর হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করায়। এই চক্রকে সুনামগঞ্জে থেকে উস্কানী ও সহযোগিতা করছে শাল্লার একই এলাকার অপর এক নাটের গুরু।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বিশ্বজিৎ গোলদার রাতে জানান, সাংবাদিক জয়ন্ত সেন শঙ্কামুক্ত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৭ মে) রাতে শাল্লা থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক জয়ন্ত আমাকে মঙ্গলবার দুপুরে তার ওপর হামলার শঙ্কার বিষয়টি আগাম ফোনে অবগত করেছিলেন। আমি দুষ্কৃতিকারীদের আমার অফিসার দিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্য জানিয়েও দিয়েছিলাম। এরপরও তার বিরুদ্ধে এই আক্রমণ মেনে নেওয়া যায়না। আমরা এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে রাতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযান পরিচালনা ও একজনকে আটকের কথা স্বীকার করেছেন ওসি আশরাফুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের উপর হামলার ঘটনাটি দুঃখনজক। আমরা এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব।