দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নির্বাচনে দেড় লাখ ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)।

মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের বৈঠকে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সভা শেষে প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে বিএনপিসহ সরকারের বাইরে থাকা বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। ইসির সঙ্গে সংলাপসহ বাইরের বিভিন্ন আলোচনায় এসব দল ইভিএমের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।

এর মধ্যেই গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানান।

সেদিন ইসি সচিব বলেছিলেন, নির্বাচন আইনের সংস্কার, রাজনৈতিক দলের মতামতসহ সবকিছু ঠিক থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন। এসব মেশিন ক্রয়ের জন্য খরচ হবে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। পরে দেড় লাখ ইভিএম কেনার পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠায় নির্বাচন কমিশন। তাদের দেয়া প্রস্তাব আজকের একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।’

এই প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ক্রমান্বয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম মেশিন কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে। এছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব জনবলের জন্য ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ আয়োজন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

ইভিএমের যেন অপব্যবহার না হয় একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। মুস্তফা কামাল বলেন, বৈঠকে ইভিএমের প্রশিক্ষণ ও এর ব্যবহার শেখাতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনোভাবে এটার যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইভিএমের ব্যবহার যেন গ্রাজুয়ালি করা হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কি না এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। আরপিওতো সংশোধন করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ইভিএম প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি আমরা। এটা তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে। জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদকাল পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়িত হবে। পুরো টাকাই বাংলাদেশ সরকার দিবে। এটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে।’