দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি

বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের হেরফের হয়নি। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের এই অবস্থান বেশ উদ্বেগজনক বটে।

২০০৮ সাল থেকে টিআইয়ের দুর্নীতি সূচকে ১০ থেকে ১৫ এর ঘরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ছয়টি বছর ধরে বাংলাদেশের দুর্নীতি পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন আসেনি। আগের বছর আমরা ছিলাম ১৪ নম্বরে, এবার এগিয়ে ১৩ নম্বরে এসেছি। সাতটি দেশ এবার জরিপের আওতাভুক্ত না হওয়ায় এই অবস্থান। তবে এসব দেশ সব সময় বাংলাদেশের তুলনায় বেশি স্কোরই পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার কথা যদি বাদ দেই, ভুটান ও নেপালের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র এমনকি জঙ্গিবাদের সমর্থক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দেশ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানেরও দুর্নীতি সূচকে এগিয়ে থাকা আমাদের জন্য লজ্জার সংবাদই বটে। অবস্থার যে বেশি হেরফের হয়নি খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তা মেনে নিয়ে বলেছেন, ‘দুর্নীতি রোধে কোনো উন্নতি হয়নি বলে আমার ধারণা। এ ব্যাপারটা নিয়ে আমি কথাও বলতে চাই না। দুর্নীতির ব্যাপারটাতে আমরা টাচ-ই করতে পারিনি।’ তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি দুর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও দুর্নীতি দমন সংস্থা (দুদক) দুর্নীতির ধারণাসূচকের স্কোর আগের অবস্থায় থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দুদকের দাবি, তাদের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি!

দুর্নীতি যে বাংলাদেশে সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে এটা এখন আর নতুন তথ্য নয়। দেশের এমন কোনো খাত বাকী নেই যেখানে দুর্নীতি থাবা বসায়নি। এর আগেও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিভিন্ন সরকারি ও আধাসরকারি সংস্থার অভ্যন্তরে দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে সরকারের তরফ থেকে সেগুলো স্বীকার করে নেওয়ার পরিবর্তে টিআইবিকে দোষারোপ করা হয়েছে। দেশে দুর্নীতি বিস্তারের অন্যতম কারণ আমাদের এই অস্বীকারের রাজনীতি। টিআই তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুর্নীতি দমনে দুদকের প্রত্যাশিত সক্রিয়তা ও দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার ঘাটতি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসার প্রসার, ভূমি, নদী ও জলাশয় দখল, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, অবৈধ লেনদেনের সুযোগ বহাল থাকাতেই দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতোই রয়ে গেছে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি। বিদেশি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সুশাসন সবই ব্যহত হয় দুর্নীতির কারণে। টিআইয়ের প্রতিবেদন সরকারের তরফ থেকে মেনে নেওয়ায় আমরা আশাবাদী, সরকার এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।