দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বিনামূল্যে আইনি সেবা সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ: আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০১৮ : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বিনামূল্যে আইনি সেবা সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ উন্নয়নের ধারাকে সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছে দিতে আরো পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অচিরেই জনগণ এসবের সুফল পাবে।

সরকারী এ আইনি সেবা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ মামলায় অসহায় জনগণকে আইনি সেবা দেয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। এ কার্যক্রম ডিজিটাল হওয়ায় এখন জনগণ আরও সহজে অ্যাপ ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেবা পাবে বলেও জানান তিনি।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সরকারি আইনি সেবার ডিজিটালাইজেশন’-এর সফটওয়্যার ও অ্যাপস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আজ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আইনমন্ত্রী।

আজ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার প্রায় ৩০ জন আইন সহায়তা কর্মকর্তাদের মধ্যে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং কমিশনের সদস্য বিচারপতি ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম-সচিব বিকাশ কুমার সাহা, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র পরিচালক মো. জাফরোল হাছান বক্তৃতা করেন।

আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমানে দেশের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। তাই বিডি লিগ্যাল এইড অ্যাপস সরকারিভাবে আইনি সহায়তা প্রাপ্তির এক ডিজিটাল দরজা হিসাবে কাজ করবে। কারণ এই লিগ্যাল এইড অ্যাপস ব্যবহার করে হাতের কাছেই পাওয়া যাবে সরকারি আইনি সেবাসমূহ।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সকল ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ এইসব তথ্য কেন্দ্রে গিয়ে চাকুরির আবেদন থেকে শুরু করে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ই-সেবা গ্রহণ করছেন। আজ থেকে ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্র থেকে তাদের আরো একটি ই-সেবা প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হলো।
মন্ত্রী বলেন, ইংল্যান্ড,আমেরিকার মত উন্নত দেশসমূহের আদলে লিগ্যাল এইড সার্ভিসকে আরও বেশি যুগোপযোগি ও সহজতর করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার ও অ্যাপস তৈরীর কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

তিনি বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমরা অনলাইন ডিসপুট রিসলিউশন পদ্ধতিও চালু করতে চাই। যাতে করে যেকোন আইনিসেবা গ্রহীতা অনলাইনে তার বিরোধটি লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সফটওয়্যার ও অ্যাপস উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে (আগামী সোমবার, ৯ অক্টোবর) উপস্থাপন করা হবে।
আইন মন্ত্রী বলেন, তথ্যমন্ত্রী ও আইসিটিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাসহ এডিটরর্স কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সেখানে পরিষ্কার বলেছি এবং আজও বলছি, মন্ত্রিপরিষদের আগামী বৈঠকে (৯ অক্টোবর) না হলেও এর পরের বৈঠকে সুপারিশগুলো আলোচনার জন্য উপস্থাপন করব।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার লেখা বই নিয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে বিষেদাগার করেছেন। বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা যেহেতু হয়ে গেছে, এটা দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব। তারা বিষয়টি দেখবেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন হলে তা আদালতের মাধ্যমে হবে। মামলা যখন চলবে, তখন সেটি দেখা যাবে।

Inline
Inline