দুদক হটলাইনে অভিযোগ জানানো বাড়ছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক : একের পর এক ফোন আসছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চালু করা হটলাইনে। দুর্নীতির তথ্য জানানোর এই হটলাইনে অভিযোগের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। গত ২৭ জুলাই চালুর পর আজ মঙ্গলবার বিকেল পর‌্যন্ত ১২ দিনে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ফোন এসেছে এই ১০৬ হটলাইনে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিকেলে তথ্য জানান। প্রণব কুমার জানান, তবে যেসব অভিযোগ এসেছে তার সব দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় পড়ে না। আবার অনেক ফোন রিসিভও করা যায়নি। রিসিভ করা অভিযোগগুলোর মধ্যে দুদকের আওতায় পড়ে এমন প্রায় ৩০০ অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’ এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দুদকের এই হটলাইনের ব্যবস্থাটা এমন- এখানে ফোন এলেই সেটি গণনা হয়ে যায়, তা রিসিভ করা হোক না হোক। সেই হিসাবে প্রণব কুমারের ভাষ্য, ‘আমাদের সিস্টেমে দেখা গেছে, চালুর পর এ পর‌্যন্ত (মঙ্গলবার বিকাল) এক লাখ ১২ হাজার ফোন এসেছে হটলাইনে।’ ২৭ জুলাই টোল ফ্রি এ হটলাইন উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অভিযোগ জানানো যায় এই হটলাইনে। এ জন্য কোনো খরচ হয় না গ্রাহকের। অফিস সময়ের ভেতর যেসব ফোন আসে তা সরাসরি রিসিভ করেন নিয়োজিত ব্যক্তিরা। তবে ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টা ফোন রিসিভের পরিকল্পনা আছে দুদকের। হটলাইনে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, হটলাইনসহ কমিশনের তফসিলভুক্ত যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশেষ তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। যেসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করার যোগ্য, তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে কমিশন তিনটি বিশেষ টিম গঠন করেছে, যারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।’ হটলাইনে অভিযোগ আসছে নানা বিষয়ে। এমনকি পারিবারিক বিরোধেও অনেকে অভিযোগ করছেন হটলাইন। দুদক থেকে জানা গেছে, ঘুষ, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ, পুলিশে হয়রানি, পল্লী বিদ্যুতে ভোগান্তি, ভিজিএফ, কাবিখা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রেল বিভাগ, পাসপোর্ট অফিস, ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ নিয়ে বেশি অভিযোগ আসছে। অভিযোগ জানানোর সহজতার জন্য মানুষ তাতে বেশি সাড়া দিচ্ছে বলে জানান দুদক সূত্র। যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে ১০৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যায়। হটলাইনে অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন হটলাইনের সুবিধা সম্পর্কে দুদক জানায়, জনগণের সঙ্গে সংস্থাটির প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন, দ্রুত দুর্নীতির তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া, দুর্নীতির ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে অথবা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক প্রতিকার বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া, দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি এবং কমিশনের প্রতি জনআস্থা সৃষ্টি ইত্যাদি।