দুদকের হটলাইনে এক সপ্তাহে ৭৫ হাজার ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতির তথ্য জানাতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হটলাইনে চালুর এক সপ্তাহে ফোন এসেছে ৭৫ হাজার।বৃহস্পতিবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য জানান।২৭ জুলাই টোল ফ্রি এ হটলাইন (১০৬) উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অভিযোগ জানানো যায় এই হটলঅইনে। এ জন্য কোনো খরচ হয় না গ্রাহকের।হটলাইন চালুর প্রথম ছয় ঘণ্টাতেই ফোন এসেছিল প্রায় দুই হাজার। তবে যেসব অভিযোগ এসেছে তার সব দুর্নীতি দমন কমিশনে আইনের আওতায় পড়ে না। এই আওতায় প্রথম দিন ৫৫টি অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় পড়ে বলে জানা গেছে।এ সেবা চালুর ফলে জনগণ সহজে তাদের অভিযোগ জানানোর জায়গা পেয়েছে বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, কোনো খরচ ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারছে মানুষ।দুদক থেকে জানা গেছে, ঘুষ লেনদেন, জাল জালিয়াতি, অবৈধ সম্পত্তি, মানি লন্ডারিং, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ করে থাকে দুদক।অভিযোগ পেলে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক কর্মকর্তা প্রণব কুমার বলেন, ‘আমরা যাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারি এ জন্য কমিটি করা হচ্ছে। কেউ ঘুষ লেনদেন করলে অভিযোগ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’অভিযোগ করার বিষয়ে দুদক জানায়, যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে ১০৬-এ ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। হটলাইনে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন থাকবে। একাধিক ব্যক্তি একই সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে, অভিযোগকারী চাইলে তার বক্তব্য রেকর্ড করা যাবেহটলাইনে অভিযোগ আসছে নানা বিষয়ে। এমনকি পারিবারিক বিরোধেও অনেকে অভিযোগ করছেন হটলাইন। এ ছাড়া ঘুষ চাওয়া, অবৈধ সম্পত্তি অর্জন, জমিজমা দখল ইত্যাদি বিষয় অভিযোগ আসছে বলে জানা গেছে।তবে মোট অভিযোগের বেশির ভাগই দুদকের আওতায় পড়ে না বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আস্তে আস্তে জনগণ বুঝবে কোনগুলো আমাদের আওতাভুক্ত। তবে যেগুলো আমাদের আওতার বাইরে সেগুলোর ব্যাপারে আমরা বলে দেই কোথায় অভিযোগ করতে হবে।’হটলাইনের সুবিধা সম্পর্কে দুদক থেকে জানানো হয়, জনগণের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন, দ্রুত দুর্নীতির তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া, দুর্নীতির ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে অথবা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক প্রতিকার বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া, দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি এবং কমিশনের প্রতি জনআস্থা সৃষ্টি ইত্যাদি।