দুই মামলায় খালেদার জামিন, একটিতে খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কুমিল্লায় দায়ের করা নাশকতার দুটি মামলায় ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। তবে নড়াইলে দায়ের করা মানহানির মামলায় তার জামিন নামঞ্জুর করেছে উচ্চ আদালত।

সোমবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড হওয়ার পর থেকে কারাগারে বিএনপি নেত্রী। গত ১২ মার্চ তাকে চার মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখে ১৬ মে। তবুও মুক্তি পাননি বিএনপি নেত্রী। কারণ আরও পাঁচটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা রয়েছে আর এর মধ্যে তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০১৫ সালে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় আটজনকে। এই ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা মামলায় বিএনপি নেত্রীকে করা হয়েছে হুকুমের আসামি।

এর বাইরে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়া, ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগ করা মামলাতে ১৭ মে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে ঢাকার দুটি আদালত। আর মুক্তিযদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে নড়াইলে করা মামলায় গত ৮ মে খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ হয়।

এসব মামলায় স্ব স্ব আদালতে আবেদন না করে উচ্চ আদালতে দুটি আবেদন করেন বিএনপি নেত্রী। মধ্যে তিনটি মামলায় আবেদন হয় ২০ মে।

এর মধ্যে পেট্রলবোমায় হত্যা মামলায় জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। রবিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও জে বি এম হাসানের বেঞ্চে কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার পাশাপাশি শুনানি হয় নড়াইলের মামলার ওপর।

খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দীন খোকন, মাসুদ রানা।

জামিন দেয়ার বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির পাঁচ বছরের সাজার মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।