দামুড়হুদায় এই প্রথম সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্পের সেচ স্থাপন

হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় কৃষকদের সেচ সুবিদ্বার্থে স্থাপন করা হচ্ছে সৌর চালিত পরিবেশ বান্ধব সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প। এতে কৃষকদের যেমন সময় অপচয় কম হবে তেমনি গভির নলকূপের তুলনায় সেচ খরচও কম হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশবপুর, জুড়ানপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর ও হাউলি ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে বিদ্যুৎ বিহীন, আর্সেনিকমুক্ত এলাকায় চাষিদের মতামতের ভিত্তিতে মাঠে মোট তিনটি সৌর চালিত ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে কাদিপুর ও দামুড়হুদার কেশবপুর গ্রামের মাঠে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিষ্ণপুর মাঠের পাম্প বসানোর কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে।
আগামি কয়েক দিনের মধ্যে এটির সেচ কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ইডকলের অর্থায়নে ওয়েভ ফাউন্ডেশন এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

ওয়েভ ফাউন্ডে সোলার ডিপ ইমিগ্রেশনের সমন্বয়কারী কিতাব আলি জানান, বিদ্যুৎ বিহীন মাঠে এই পাম্প বসানো হচ্ছে। প্রথমে মাঠে পানি পরিক্ষা করে আর্সেনিক মুক্ত এলাকায় কৃষকদের মতামতে ভিত্তিতে ১০কাঠা জমি প্রতি বছরে ৫/৬ হাজার টাকা চুক্তিতে লিজ নেওয়া হয়। পরে ওই জমিতে ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেসিনের ঘর, দুই সারিতে ১৩৬টি সৌর প্যানেল, মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসানো হয়েছে।

জমির চার ফুট মাটির নিচ থেকে পাইপ বসানো হয়েছে। যাতে করে চাষিদের চাষ কাজের কোন অসুবিধা বা জমি অপচয় না হয়। এই ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প থেকে ২শ বিঘা জমিতে অনায়াসে সেচ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। সৌর প্যানেলে সংযোগ দেওয়ার কাজসহ সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখান থেকে প্রতি ঘন্টায় আড়াই লক্ষ লিটার পানি উত্তোলিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই পাম্প চালানো যাবে। রাতে কখোনোই এই পাম্প চালানো যাবে না বলে জানান কিতাব আলি।

তিনি বলেন, সম্পতি দামুড়হুদার কাদিপুর গ্রামের মাঠে ও আজ শুক্রবার দামুড়হুদার কেশবপুর মাঠে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামি কয়েক দিনের মধ্যে বিষ্ণপুর মাঠে সেচ কার্য়ক্রম শুরু করা হবে। সোলার ডিপ ইরিগ্রেশনের আওতায় চাষিরা চাষ করে অনেক সুবিধা পাবেন। যেখানে গভির নলকুপে বছরে সেচ খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। অগভির নলকুপে স্যালো ইঞ্জিনে প্রতি বছর খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। সেখানে সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্পের আওতায় প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে সেচ খরচ ধরা হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫ শত টাকা।

তিনি আরও বলেন, ২০ বছর এই ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প পরিচালনার করবেন ওয়েভ ফাউন্ডেশন। এখানে একজন মাসিক চুক্তিতে চালক নিয়োগ দেওয়া হবে। চাষিরা চালককে তার জমিতে পানির প্রয়োজন জানালেই সে জমিতে পানি দেওয়া হবে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলায় বিদ্যুৎ বিহীন আর্সেনিক মুক্ত এলাকায় পর্যায় ক্রমে চলতি সেচ মৌসুমে ৩০টি সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলাই ১৪টি সোলার ডিপ ইরিগ্রেশন পাম্প চালুকরা হয়েছে।