দাবি মানার ঘোষণার পরও সড়কে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান অব্যাহত হয়েছে। তবে আগের দুই দিনের তুলনায় সকালে এই সংখ্যাটা কিছুটা কম।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার পর মিরপুর-১০ নম্বর, আসাদ গেটের পাশে মিরপুর রোড, উত্তরায় হাউজবিল্ডিং মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রদের টানা বিক্ষোভের মধ্যে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে। কিন্তু তাদের একটি অংশ রাজপথে নেমেছে তাদের স্কুল কলেজের পোশাক পরেই।

গত বরিবার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর সেদিন ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি ভাঙচুর করে বিমানবন্দর সড়কে। পরদিনও এই সড়ক অবরোধে রমিজউদ্দিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নেয় আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আর তার পরদিন থেকে এটি ছড়িয়ে যায়।

মঙ্গল ও বুধবার ব্যাপক আকারে নগরীর বিভিন্ন এলাকাতেই শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে দাবি জানাতে থাকে। পাশাপাশি তারা ব্যাপকভাবে গাড়ি চালকদের লাইসেন্সও পরীক্ষা করতে থাকে।

এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসে জরুরি বৈঠক। এখান থেকে ছাত্ররা যে নয় দফা দাবি তুলেছিল, তা মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

তবে ‘সব দাবি মেনে নিলাম, ওঠে যাও’-বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের এই ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে উঠে যাওয়ার পেছনে আশ্বস্ত হওয়া নাকি বৈরী আবহাওয়া কারণ ছিল সেটি জানার সুযোগ ছিল না। কারণ, বিকালে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি।

ঘোষণার পরদিন সকালে সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন মিরপুর রোডে অবস্থান নেয় মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, বিএফ শাহিন কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

তাদের অবস্থানের কারণে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসগামী লোকজন পড়েছে বিপাকে।

আন্দোলনরত বিএফ শাহিন কলেজের ছাত্র হাসনাইন করিম বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। মুখের কথায় কিছু হবে না, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

‘নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ আমাদের যে নয় দফা দাবি আছে তা মেনে নিতে হবে।’
হাসনাইন করিম নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেও নয় দফা দাবিতে এটা ছিল না। সেখানে মন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ছিল এবং এরই মধ্যে সেটা পূরণ হয়েছে। মন্ত্রী একাধিক কর্মসূচিতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। সব শেষ বুধবার নিহত দিয়া খানম মিমের বাসায় গিয়ে তার স্বজনদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন।

নৌমন্ত্রী পরিবহন খাতে শ্রমিকদের নেতা। পাশাপাশি বরিবারের দুর্ঘটনার পর হাসিমুখে তার কথা বলার ছবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয় শিক্ষার্থীরা।

প্রতিদিন এভাবে সড়কে অবস্থান নেয়ায় যে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে, সেদিনে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের ছাত্র কাজী যায়েদ বলেন, ‘এতদিন অনেক মানুষের জীবন গেছে। ওই জীবনগুলোর চাইতে এই ভোগান্তি বেশি নয়। দাবি মানতে হবে, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। দাবি মানা না হলে আরো অনেক জীবন এভাবে চলে যাবে।’

সকাল ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরেও ছাত্ররা অবস্থান নেয় সড়কে। এতে সেখানেও যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

একই চিত্র উত্তরার হাউজবিল্ডিং মোড়ে। সেখানেও মূল সড়কে জড়ো হয়ে ছাত্ররা বসে আছে। আর এতে ঢাকা-জয়দেবপুর রোড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং ঢাকা উত্তরবঙ্গ যোগাযোগের অন্যতম পথটি থমকে আছে।