দল বেঁধে কোটি টাকার মাছ লুট, অসহায় ইজারাদার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার মুক্তারপুর নদী গ্রুপ জলমহালটির প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ লুট করেছে হাজারো জনতা।

গতকাল শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার জনতা দল বেধে এসে ওই জলমহালটিতে নেমে লাটি জাল দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায়।

এসময় জলমহালে উপস্থিত থাকা ইজারাদার সমিতির লোকজন তাদেরকে বাধা দিলে লাটিসোটা নিয়ে ওইসব জনতা তাদের দিকে তেড়ে এসে বাধা-নিষেধের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক জলমহালটির মাছ লুট করে। পরে মুক্তারপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য সচিব নীলকান্ত দাস বিষয়টি শাল্লা থানা পুলিশকে অবহিত করলে এসআই মোঃ ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য জলমহালে গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

ইজারাদার সমিতির সদস্য সচিব নীলকান্ত দাস বলেন, এই গ্রুপ জলমহালটি আমার সমিতি ১৪২৫ বাংলা থেকে ১৪৩০ বাংলা সন মেয়াদে ভূমি মন্ত্রণালয় হতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইজারা গ্রহণ করে দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভয়াশ্রম নির্মাণে যথারীতি কার্যক্রম গ্রহণ করি। নির্মিত দেশীয় প্রজাতির মৎস্য অভয়াশ্রম বিনষ্ট করে এলাকার উশৃংখল জনতা আমাদের জলমহালের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়।

এছাড়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের কার্তিকপুর গ্রাম সংলগ্ন গোলমা বিল ও মনুয়ার দাইড় নামক জলমহালটিও একই কায়দায় লুট করে উশৃংখল জনতা।

এ-দুটি জলমহালের ইজারা সংশ্লিষ্ট লোকজন সাংবাদিকদের জানান, এলাকার উশৃংখল হাজারো জনতা লাটিসোটা নিয়ে অতর্কিতে জলমহালে প্রবেশ করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ লুট করেছে। তারা আরো জানান যে, প্রায় বছরই ওইসব জনতা এলাকার ইজারাকৃত বিভিন্ন জলমহাল এভাবে লুটপাট করে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে এই সময়টাতে জলমহাল লুটের একটি রীতি এলাকায় প্রচলিত আছে।

এলাকার প্রবীন লোকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ওইসময়টাতে এলাকার লোকজন অনেকটা উৎসবে মেতেই জলমহালগুলোতে মাছ ধরে। এসময় এলাকার জনতা পলো ও লাটি জাল দিয়েই মাছ ধরে থাকে।

জলমহালগুলোর ইজারাদাররা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন- এ রীতি চলতে থাকলে প্রকৃত ইজারাদারগণ জলমহাল ইজারা গ্রহণে আগ্রহ হারাবে। আর জলমহাল ইজারা না হলে- একদিকে সরকারি রাজস্ব ব্যাহত হবে এবং অপরদিকে জাতীয় মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মূখে পড়বে।