থাইল্যান্ড থেকে ১০ লাখ টন চাল আনবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২১ সালের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী থাইল্যান্ড থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যৌথ বাণিজ্য কমিশনের (জেটিসি) দুই দিনব্যাপী বৈঠকের শেষে দিনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ কথা জানান।
গতকাল বুধবার শুরু হওয়া জেটিসি বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ হয়।বৈঠকের শেষ দিনে দুপুরে থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি তানট্রাপর্ন এর সাথে বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে থাইল্যান্ডের সমসাময়িক বাজার দরে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি করে বাংলাদেশ।এসময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে এ চাল আমদানি করা হবে।বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আরও জানান, ২০২১ সালের মধ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এর জন্য যা যা করা দরকার তা করা হবে। এ লক্ষ্যে দুই দেশ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএফ) করতে আগ্রহী বলে জানান দেশ দুটির বাণিজ্যমন্ত্রী।এদিন থাই বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশের খাদ্রমন্ত্রীর মধ্যে চাল আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই শেষে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর ২ কোটি ৫০ থেকে ৭০ লাখ টন চালের চাহিদা রয়েছে। আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টন। কিন্তু এ বছর বন্যার কারণে উৎপাদনের সমস্যা হওয়ায় চাল আমদানি করতে হবে। এ চুক্তির ফলে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা যাবে। তবে আমাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আমদানি করব। এটা ১ লাখ টনও হতে পারে ৫ লাখ টনও হতে পারে। দামও নির্ধারণ হবে দুদেশের সংশ্লিষ্টদের আলোচনা মাধ্যমে।’তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে দুই বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য যা যা করা দরকার দুই দেশের পক্ষ থেকে তা করা হবে বলে আমরা সম্মত হয়েছি। এ বিষয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে এফটিএ করা হবে। তারাও সম্মত আছে।’এফটিএ না হওয়া পর্যন্ত পাট, তৈরি পোশাকসহ ৩৬ টি পণ্যের থাইল্যান্ডে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবি রাখা হয় বলেন জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।এমওইউ চুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গী হতে হতে পেরে থাইল্যান্ড খুশি জানিয়ে থাই বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি তানট্রাপর্ন বলে,বাংলাদেশের সাথে এফটিএফ করতে আমরাও আগ্রহী। তবে দুই দেশের সক্ষমতা অনুযায়ী এফটিএফ করা হবে বলে আশা করি।’