ত্রিভুবনের সংস্কারে অবহেলা স্পেনিশ কোম্পানির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বারবার বিমান দুর্ঘটনায় অভিশপ্ত নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছয় বছর আগে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল দেশটির সরকার। বিস্তীর্ণ পাহাড়ে ঘেরা রাজধানী কাঠমান্ডুর কেন্দ্রস্থল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থান এ বিমানবন্দরের। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়া একটি স্পেনিশ কোম্পানির অবহেলার কারণে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি দেশটি।

বিভিন্ন সময় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরটি প্রায়শ আলোচনায় উঠে আসে। বিভিন্ন বিমান সংস্থার পাইলটদেরও রয়েছে ত্রিভুবনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) বিরুদ্ধে ভুল বার্তা পাওয়ার অভিযোগ। এছাড়া ত্রিভুবনের এটিসি ও নেপালের আবহাওয়া বিভাগ পরষ্পরবিরোধী বার্তা দেয় বলে পাইলটরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে এখানে বিমান অবতরণ করান।

এই অভিশপ্ত বিমানবন্দরেই সোমবার ইউএস বাংলার ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছে ২৬ জন।

নেপালে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে তাদের সমালোচনা হয়েছে। যদিও নেপালের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এখন বলছে ছয় বছর আগে ন্যাশনাল প্রাইড নামে একটি প্রকল্পের আওতায় ত্রিভুবনের পরিসর বাড়ানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজটি সম্পাদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির অবহেলার কারণে সেটি আর সম্পূর্ণ হয়নি।

বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, সানহাআস কন্সট্রাক্টর নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছিল। কিন্তু স্পেনিশ কোম্পানিটি ছয় বছরে মাত্র ২০ ভাগ কাজ করেছে। এ প্রেক্ষিতে কোম্পনিটির সঙ্গে তিন মাস আগেই চুক্তি বাতিল করে নেপাল সরকার। ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের পর এসব তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

২০১২ সালে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পরিসর বাড়ানোর জন্য যে নেয়া প্রকল্পটিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ৬ বিলিয়ন নেপালিজ রুপি সহায়তা করে। এর আওতায় এয়ারক্রাফট পার্কিংয়ের জন্য ত্রিভুবনে আরো ১৩টা স্থান বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

জানা যাচ্ছে, ত্রিভুবন বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো বিমান অবতরণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিমানের পাশাপাশি সেখানে হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হয়েছে। আর সর্বশেষ দুর্ঘটনার শিকার হলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি।

এদিকে নেপালের সিভিল এভিয়েশন এখন বলছে, তারা ত্রিভুববন বিমানবন্দরের চারটি অংশে সংস্কারের কাজ করবে। এ জন্য তারা ভিন্ন একটা কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে দিয়েছে।

দেশটির এভিয়েশন অথরিটির মহাপরিচালক সানজিভ গৌতম বিবিসিকে বলেছেন, চীনা একটা কোম্পানি তিন মিটার দৈর্ঘ্য ট্যানেল, টার্মিনাল ভবন, টার্মিনাল ভবনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করছে। এনক্লাসি ভবন এবং টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই সব কাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে বিবিসিকে জানান তিনি। সূত্র : বিবিসি বাংলা, হিমালয়ান টাইমস