তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে আজ আবার দুদকের মুখোমুখি হচ্ছেন বাচ্চু

বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলা তদন্তে তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশটি রবিবার তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে আজ সোমবার সকাল ৯টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর আগে বাচ্চুকে গত ৪ ডিসেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। এর মধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল। ওই দিন তিনি ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে এক মাস সময় চেয়ে দুদকে লিখিত আবেদন করেন। তবে দুদক তার আবেদন নাকচ করে দেয়।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর মামলা তদন্তের জন্য দুদক টিম গত ২২ নভেম্বর ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠায়। এদের মধ্যে বাচ্চু বাদে সবাইকে ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় মোট ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওইসব মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রযেছেন ২৬ জন। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮ মামলায়, ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, আইটি শাখার মো. সেলিম আটটি এবং বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি। তবে কোনো মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। ওই মামলাগুলোর বাকি ১৩০ জন আসামি হলেন ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। দুদক ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তবে বাকি আড়াই হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান শেষে সেগুলোর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।