তিস্তা চুক্তিতে মমতাকে রাজি করাতে সচেষ্ট দিল্লি: মোদি

নিজস্ব সংবাদদাতা : তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজি করাতে নয়াদিল্লি সচেষ্ট রয়েছে বলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রবিবার নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতির ভবনে এক বৈঠকে এ কথা জানান মোদি। বিশ্বের ১২১ দেশের সৌরবিদ্যুৎ সহযোগিতাবিষয়ক জোট ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের (আইএসএ) ‘ফাউন্ডিং কনফারেন্স’ এর ফাঁকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ভারত সরকারপ্রধান বৈঠকটি করেন।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, মোদির সঙ্গে বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিস্তার পানি বণ্টনের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। জবাবে মোদি জানান, এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাচ্ছে তার সরকার এবং সকলকে নিয়েই সমাধান করতে আগ্রহী।’

ছিটমহলসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরকালে তিস্তা চুক্তি ঝুলে যাওয়ার পর এর জট আর খোলেনি। আর এই চুক্তির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন মমতা। মমতার দাবি, বাংলাদেশকে পানি দিলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যাপ্ত পানি পাবে না।

জয়নাল আবেদীন জানান, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘উই আর ট্রায়িং টু কিপ হার অন বোর্ড’ (তাকে মানানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি)।’

রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় আবদুল হামিদ মিয়ানমারের দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা চান। জবাবে মোদি জানান, বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের আলোচনা হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন ভারতের সরকারপ্রধান।

উল্লেখ্য, দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন কালচারাল সেন্টারে (আরবিসিসি) ওই সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, ফ্রান্সসহ ২৩ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান/সরকারপ্রধান এবং ৯ দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

Inline
Inline