তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে বিশ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে সমবায়ীদের আমানত প্রায় বিশ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় জেঠুয়া বাজারে সঞ্চয়সহ সকল আমানত উদ্ধার এবং দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ সভার আয়োজন করে জেঠুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সঞ্চয় ও আমানতকারী সমন্বয় কমিটি। কমিটির সভাপতি ভুক্তভোগী মো. মতিউর রহমান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স.ম. আহাদ’র পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার রফিকুল ইসলাম, ভুক্তভোগী মো. আকবর হোসেন, জি. এম. মোফাজ্জেল হোসেন, মাষ্টার আলমগীর হোসেন এমাদুল প্রমূখ। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্তেও বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সেসব টাকা আদায়ে ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন, তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার এলাকার কয়েক ব্যবসায়ী ২০০০ সালে সেখানকার ব্যবসায়ীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেঠুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি সমিতিটি সমবায় অফিসের নিবন্ধন পায়। সমিতির কার্যক্রম ও তৎপরতায় এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়াও ফেলে। সে সময় তাদের সদস্য সংখ্যা ছিল এক হাজার ২৩ জন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সমিতি সদস্যদের মধ্যে প্রতিটি ৫০ টাকা করে এক লাখ শেয়ার বিক্রি করে, যা থেকে মূলধন দাঁড়ায় ৫০ লাখ টাকা সমবায়ীরা জানান, সঞ্চয় গগ্রহণ ও শেয়ার বিক্রি থেকে সমবায়ীদের মধ্যে ঋণদান কর্মসূচি শুরু করলেও পরে অর্থাভাব দেখিয়ে ঋণদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময় থেকেই ধরা পড়তে শুরু করে তাদের তঞ্চকতামূলক কার্যক্রম।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা হাসান মাহমুদের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধু শেয়ার বিক্রি থেকে বিভিন্ন সময়ে আত্মসাৎ হয়েছে ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ টাকা। প্রতিবেদনে ঋণের আসল বাবদ ২১ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৫ টাকা ও মুনাফা বাবদ ২৪ হাজার ৫৮৬ টাকার হিসেব মিলছে না বলে জানানো হয়। সদস্যদের বিপুল পরিমান এই টাকা সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল জব্বার, সহ-সভাপতি সুকুমার দাশ, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুল ইসলাম তুহিন, হিসাব রক্ষক গৌতম দত্ত, সদস্য আলী আজগর, শেখ মুক্তার আলী, সচিব লক্ষণ দত্ত ও আদায়কারীরা পরস্পর যোগসাজসে কৌশলে আত্মসাৎ করেছে। এ নিয়ে সমিতির সদস্যরা প্রতিবাদ করলে এবং টাকা ফেরৎ চাইলে তাদের নানাবিধ হুমকি-ধামকি প্রদান করা হয়। পরবর্তিতে সকল সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হলে প্রায় দেড় বছর ধরে জোড়া তালা লাগিয়ে সমিতির অফিস বন্ধ করে দিয়েছে ওই প্রতারকচক্র। এ ঘটনায় সমিতির ক্ষতিগ্রস্থ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ সদস্যরা অবিলম্বে আমানতের টাকা উদ্ধার সহ প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে। উক্ত সভায় সকল সদস্যরা সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।