তালায় সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এস এম হাসান আলী বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে সমবায়ীদের আমানত প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্তেও বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সে সব টাকা আদায়ে ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার এলাকার কয়েক ব্যবসায়ী ২০০০ সালে সেখানকার ব্যবসায়ীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেঠুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি সমিতিটি সমবায় অফিসের নিবন্ধন পায়। সমিতির কার্যক্রম ও তৎপরতায় এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়াও ফেলে। সে সময় তাদের সদস্য সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৩ জন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সমিতি সদস্যদের মধ্যে প্রতিটি ৫০ টাকা করে এক লাখ শেয়ার বিক্রি করে; যা থেকে মূলধন দাঁড়ায় ৫০ লাখ টাকা।
সমবায়ীরা জানান, সঞ্চয় গ্রহণ ও শেয়ার বিক্রি থেকে সমবায়ীদের মধ্যে ঋণদান কর্মসূচি শুরু করলেও পরে অর্থাভাব দেখিয়ে ঋণদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময় থেকেই ধরা পড়তে শুরু করে তাদের তঞ্চকতামূলক কার্যক্রম।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা হাসান মাহমুদের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধু শেয়ার বিক্রি থেকে বিভিন্ন সময়ে আত্মসাৎ হয়েছে ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ টাকা। প্রতিবেদনে ঋণের আসল বাবদ ২১ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৫ টাকা ও মুনাফা বাবদ ২৪ হাজার ৫৮৬ টাকার হিসেব মিলছে না বলে জানানো হয়।
এদিকে, ৬১৮ জন সদস্য সমিতিতে তাদের লগ্নি করা টাকা আদায়ে পৃথকভাবে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীদের নয়জনের পক্ষে তালার জেঠুয়া গ্রামের মৃত ইনছাপ আলী মোড়লের ছেলে মতিয়ার মোড়ল বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। এতে সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুল ইসলাম তুহিন ছাড়াও সাবেক সভাপতি গৌরপদ দত্ত, আদায়কারী লক্ষণ দত্ত ও ফটিক চৌধুরীকে বিবাদী করা হয়।
এ ব্যপারে সমিতির এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তার কাছে টাকা পাওনা আছে বলে স্বীকার করেন। বলেন, ‘খুব শিগগির টাকা ফেরত দেবো।’
সাধারন সম্পাদক শেখ শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘সদস্যদের টাকা যথাসময়ে ফেরত দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্রক্রিয়া চলছে পর্যায়ক্রমে সদস্যদের টাকা ফেরত দেওয়ার।’
এ ব্যপারে কর্মচারী লক্ষণ দত্ত বলেন, ‘আমি একজন কর্মচারী। কোনোভাবে টাকা আত্মসাতের সুযোগ নেই।’
মামলার বাদী মতিয়ার মোড়ল মামলার মাধ্যমে তাদের পাওনা টাকা বুঝে পাওয়ার পাশাপাশি সমিতিটিকে টিকিয়ে রাখার ব্যপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Inline
Inline