তালায় মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীরা

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণায় মাঠে নেমে পড়েছেন তালার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসানী দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে লবিং ও গ্রুপিং ব্যাস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তাদের প্রচার-প্রচারণায় রীতিমত দখল হতে শুরু করেছে তালা উপজেলার নির্বাচনী মাঠ।

৩৪৪.১৫ কি: মি: আয়তনের তালা উপজেলাটি সুন্দরবন উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা থেকে ২৫ কি: মি: দূরে অবস্থিত। ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত তালা। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৯ হাজার ২৩৫ জন ও মহিলা ১ লাখ ১৮ হাজার ১৩০ জন।

প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন প্রার্থীর নাম বিশেষভাবে প্রচার পাচ্ছেনা। তবে জাতীয় পার্টির দাবি তাদের প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকবেন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার, ভাইস চেয়ারম্যান দু’টি পদে (পুরুষ) মো: ইখতিয়ার হোসেন ও (মহিলা) জেবুন্নেছা খানম বিজয়ী হন।

সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে বিএনপি প্রায় সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলেও সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিজেদের অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনের ব্যাপারে কোন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও তার শরীক দলগুলো কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও সরকার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে সংসদ নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনেও প্রাধান্য পাচ্ছে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি। অনেক হেভিওয়েটদের মধ্যে উপজেলা নির্বাচনের বাসনা থাকলেও লবিং-গ্রপিংয়ের ঝামেলা এড়াতে পিছিয়ে যাচ্ছেন তারা।

জাতীয় পার্টির সরকার থাকাকালীন উপজেলা সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর ১৯৮৫ সালে প্রথম ও ১৯৯০ সালে ২য় নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে উপজেলা সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর ২০০৮ এর ৯ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে ফের উপজেলা সরকার পরিষদ ব্যবস্থা চালু করে। এরপর ২০০৯ সালের ৩য় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ঘোষ সনৎ কুমার বিজয়ী হন।

এরপর ২০১৪ সালের চতুর্থ নির্বাচনে তিনি ফের একই দলের মনোনয়নে বিজয়ী হন। এবার ৫ম উপজেলা নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাইছেন ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এবার নির্বাচনে একই দলের সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক প্রভাষক প্রনব ঘোষ বাবলু মনোনয়ন চাইছেন। ইতোমধ্যে তিনি সাংবাদিক ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মত বিনিময় করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া একই দল থেকে চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারাা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু। তারাও জোর প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার আভাস দিচ্ছেন।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ পদে) যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ইখতিয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাংবাদিক আ: জব্বার সরদার, ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।

এদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নেছা খানম এর পাশাপাশি খেশরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেত্রী, মুক্তি যুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের নেত্রী মুর্শিদা পারভিন পাঁপড়ি, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক সাকিলা ইসলাম জুঁই।

যেহেতু দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সে কারণে সংসদ নির্বাচনের ন্যায় দলীয় মনোনয়ন নির্বাচনী ময়দানে দখল করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সারি লম্বা হলেও দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।