তালায় প্রচন্ড তাপদাহ আর খড়ায় আমের মুকুল,শাক-শবজি ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা

এসএম হাসান আলী বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)সংবাদদাতা : চৈত্রের শেষ ভাগে এসেও বৃষ্টির দেখা না মেলায় তীব্র তাপদাহ আর অনাবৃষ্টিজনিত খরায় পুড়ছে তালা উপজেলার বোরো ধানের ক্ষেত, আমের মুকুলসহ গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বাগান। উপজেলার খলিষখালি, মাগুরা, জালালপুর, নগরঘাটা সহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাযায়, চলতি বোরো মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারনে মাঠে পুড়ছে বোরো ধান । ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে মাঠ। খড়ার ফলে অধিক হারে বেড়েছে লবনাক্ততা। একই জমিতে একপাশে ধানের অবস্থা ভালো দেখা গেলেও অন্যপাশে লবন ওঠার কারনে ধান গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। মিষ্টি পানির আধার না থাকায় কৃষকরা ঝুঁকেছে স্যালো ম্যাশিন ও বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্রের দিকে। তাতেও ভালো ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। কৃষকরা জানান, বোরো চাষে অন্যবারের চেয়ে এবার অধিক হারে খরচ বেড়েছে কৃষকের। স্যালো দিয়ে পানি তোলার কারনে জ্বালানী খরচ লেগেছে দিগুন। আর কিটনাশকের খরচ তো রয়েছেই।
অন্যদিকে অনাবৃষ্টির কারনে আমের মুকুল, কাঠালের ফুল, আমড়া, লেবুর ফুল শুকিয়ে পড়ে যাচ্ছে । অন্যান্য বছর গুলোতে এসময় বর্ষার দেখা মিললেও এ বছর বৃষ্টির ফোটা চোখে পড়েনি। ফসলের পাশাপাশি গবাদি পশুও বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এমনকি মারাও যাচ্ছে। এছাড়া অনাবৃষ্টি ও তাপের কারনে অনেক জমিতে লবন কেটে উঠছে ।
বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক সবজি ক্ষেত শুকিয়ে প্রায় তামাক হয়ে গেছে ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বছর আড়াই বিঘা জমিতে ৮ হাজার টাকা খরচ হলেও এবছর ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারনে স্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক মটরের সাহায্যে আমাদের অনেক দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে তাতে খরচও পড়ছে অনেক। এভাবে প্রতিবছর অনাবৃিষ্ট চলতে থাকলে আগামী বছর গুলিতে বোরো ধানের চাষ কমিয়ে আনবে বলে চিন্তা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কারন হিসেবে চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি অধিকহারে খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন কৃষকরা।এ বিষয়ে আক্ষেপের সুরে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর যে হারে খরচ বেড়েছে তাতে করে আগামী মৌসুমে বোরো ধান চাষ করবো কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি। গত বছর চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টি হলেও এ বছর বৃষ্টির দেখাই মেলেনি। ফলে চলতি মৌসুমে তেল/বিদ্যুৎ খরচ ,কিটনাশক, শ্রম সবকিছুই বেশী লেগেছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামসুল আলম বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় অবশ্যই মাঠে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের চালের বড় জোগান আসে বোরো মৌসুমে। তাই কৃষি বিভাগ বোরো ধান চাষের প্রতি কৃষকদের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি তাদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা নিয়ে কাজ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।