তালায় পাট চাষে বাম্পার ফলন ,কৃষকের মুখে হাসি

তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতার পংক্তিতে লিখেছিলেন ‘‘এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি’’। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই দেশ। আমাদের কৃষকরা রোদ বৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে সোনার ফসল ফলান। পাট বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থকরী ফসল। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের মাটিতে রয়েছে এর যথেষ্ট সুনাম। একসময় সোনালী পাটের আশ প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে লক্ষ্য করা যেতো। বাড়ির পাশে, উঠোনের আড়ায় আবার কখনও ঘর ভর্তি থাকতো কৃষকের পাট। আজকের দিনে যতটুকু দেখা যায়, তাতে পাটের সোনালী অতীত কে আবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
এ বছর তালা উপজেলায় পাটের বেশ বাম্পার ফলন হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়। গাছগুলো যেমন মোটা তেমনিই পুরু তার ছাল। অনুকুল আবহাওয়া, উপযুক্ত পরিবেশ আর সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর কৃষকরা তাদের পাট চাষে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। খোজ নিয়ে দেখা গেছে, যতজন কৃষক এ বছর পাট চাষ করেছিল তাদের প্রত্যেকের ভালো ফলন হয়েছে। অনেকে পাট ডোবা, নালায় আশ ছাড়ানো জন্য পচান (জাগ) দিয়েছেন। আবার অনেকে ইতোমধ্যে ধৌত করার কাজ জোরেসোরে শুরু করেছেন। পাট ছাড়ানোর কাজে অনেকে ৪/৫ টি শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। আটি প্রতি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ১৫/২০ টাকা। তাই কে কয়টি আটি আগে আশ ছাড়িয়ে পরিস্কার করে আগে উঠতে পারেন চলছে সেই প্রতিযোগিতা।
তালার পাট ব্যবসায়ীগণ বেশ আগ্রহের সহিত পাট ক্রয় করে চলেছেন। কৃষকরা জানালেন, আশাকরি এ বছর পাটের উপযুক্ত দাম পাব।
থানার মাঝিয়াড়া গ্রামের আ: আলীম জানালেন, এ বছর একটু দেনার মধ্যে ডুবে আছি। পাটের উপযুক্ত দাম পেলে হয়তো দেনা পরিশোধ করে পেরে ওঠা সম্ভব হবে।
তালা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ বছর পাটের চেহারা দেখে পরান জুড়িয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের যদি প্রশিক্ষণ, কীটনাশক ঔষধ এবং কৃষি লোনের ব্যবস্থা করা যায় তবে অনেকের আগ্রহের সহিত পাট চাষ মুখী করে তোলা সম্ভব।