তালায় পাটের বাজারে ধস, ভারতীয় দালালদের আনাগোনা বেড়েছে

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় তালায় পাটের বাজারে ধস। পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কায় পাট চাষীরা। গত বছরের চেয়ে বাজারে পাটের দাম কম থাকায় দিশেহারা কৃষকরা। দেশী বাজারে মূল্য কম থাকায় পাট পাঁচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে তালায় ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তালার পাট চাষে জড়িত অর্ধলক্ষাধিক চাষী পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
এখন সোনালী আঁশ পাট বেচা-কেনার উপযুক্ত সময়। এবার পাটের দাম হাট-বাজারে একটু বেশি হওয়ায় কথা ছিল। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভালো লাভের আশা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে পাট। দাম কম হওয়ার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষছেন পাইকারী ব্যবসায়ীদের। আর পাইকারী ব্যবসায়ীরা দায়ী করছে খুচরা ব্যবসায়ীদের।
সূত্র বলছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাটের দাম তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকায়। অন্যদিকে একই পাট ভারতের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬শ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। যে কারণে পাট ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, ভারতের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আগে থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের (পাট) সঙ্গে যোগসাজশ করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। ভারতীয় ওইসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে ব্যবসার নানা দিক দেখাশোনা করে এবং কোন পথ বা রুট দিয়ে তা নিবে সেটা পর্যবেক্ষণ করে গোপনে।
সাধারণ কৃষক ও পাট ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাট সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ভারতে লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে পাটের চাহিদাও বেশি। সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারতের ব্যবসায়ীরা।
একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোরসহ সীমান্তবর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রচুর পরিমাণ পাট ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণির চোরাকারবারী এ দেশের হাট-বাজারে কৌশলে সিন্ডিকেট করে সেই পাট কিনে ভারতে পাচার করছেন।এদিকে ভারতে অবাধে পাট চলে যাওয়াতে দেশের রাষ্ট্রীয়ও পাটকলগুলোতেও দেখা দিয়েছে চরম পাট সংকট। এসব মিল ভরা মওসুমে পাট কিনতে পারছে না পাটকল কর্তৃপক্ষ।
পাট রফতানিকারকরা বলছেন, সরকার পাট পাচাররোধে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে এ দেশের প্রায় পুরো বাজারই চলে যাবে ভারতের দখলে বা নিয়ন্ত্রণে। যদিও পাকিস্তান, চীন, ভারত প্রভৃতি দেশে বাংলাদেশের পাটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।পাট পাচাররোধ করা না গেলে খুব শিগগিরই এসব দেশের বাজার বাংলাদেশ হারাবো বলেও জানান বৈধ পথে রফতানিকারকরা।
এদিকে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় সরকারি ও বেসরকারি মিলের কোনো ক্রয় কেন্দ্র নেই। সরকার পাটের মূল্য নির্ধারণ করেও দেয়নি। ফলে পাট চাষীরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত বছর পাটের চাহিদা ও মূল্য ভালো ছিল। তা দেখে চাষীরা পাট আবাদে উদ্ভুদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সে মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন চাষীরা।
ক্রেতা না থাকায় দালাল, ফঁড়িয়া ও বেপারীরাই একমাত্র ভরসা এখন। তারা তাদের ইচ্ছে মতো দরে পাট কিনছেন। ফলে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আগামীতে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা।
পাট চাষী তাজুল ইসলাম জানান, পাটের বাজারে এমন ধস নামবে তা ভাবতেও পারিনি।নিম্নমানের ভেজাল বীজ, প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে
তালা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এখানে মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেগ পেতে হয় চাষিদের। আবার প্রচ- গরমের কারণে আবাদ কিছুটা বিলম্বে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, সাতক্ষীরার তালায় খুব ভালো মানের পাট উৎপাদন হয়। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে ।ভারত পাটজাত পণ্যদ্রব্য আমদানির ওপর বেশ কিছু জুটমিলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশ থেকে পাটের তৈরি জিনিসপত্র ভারতে রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাটজাতদ্রব্য রফতানি অনেকাংশে কমে গেছে।