তালায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলছে গাইড বই বিক্রি ও কোচিং বাণিজ্য

এসএম বাচ্চু, তালা : সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবে রুপ দিতে সরকার গাইড বই বিপণন ও কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেও তালা উপজেলার এক শ্রেণির শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা নিষিদ্ধ গাইড বই বাজারজাত করতে বিভিন্ন প্রকাশনীর সাথে ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। সাথে সাথে কোচিং ব্যবসা খুলে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রে প্রকাশ, তালা উপজেলার ৬৯টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ গাইড বই বাজারজাত করার প্রক্রিয়া হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা শহরে নিম্ন মানের বিভিন্ন প্রকাশনীর সাথে উপজেলার কতিপয় শিক্ষক নেতা ও কোচিং ব্যবসায় জড়িত শিক্ষকদের কয়েকদফা বৈঠকের পর স্থানীয় বিভিন্ন বইয়ের দোকানে গোপনে তালিকা দিয়ে চুক্তিবদ্ধ ওই সকল নিম্ন মানের প্রকাশনীর গাইড বই তুলতে বলেছেন বলে জানা গেছে। ফলে এবছরও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে নিম্ন মানের গাইড বই পড়ে পূথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। অন্যদিকে সরকার কোচিং বাণিজ্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করলেও এক শ্রেণীর শিক্ষা ব্যবসায়িরা সরকারের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বছরের পর বছর তালা উপ-শহরে স্কুল কলেজের পাশে প্রকাশ্যে কোচিং সেন্টার খুলে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তালা – পাটকেলঘাটা লাইব্রেরিগুলো ও মফস্বলের লাইব্রেরি বা দোকানিরা এক প্রকার প্রকাশ্যে বিক্রি করছে এসব নিষিদ্ধ গাইড বা নোট বই।

স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা সরকারি নির্দেশনাকে পরোক্ষভাবে পাশকাটিয়ে বলছেন, তাদের জানামতে কোথাও কোন প্রকার গাইড বা নোট বই বিক্রি করছেনা। করলে অবশ্যই তারা ব্যবস্থা নিবেন।

অভিযোগে জানা গেছে যে, নতুন শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রকাশিত বই তালিকাভুক্ত করতে সেই গত বছরের শেষ সময় থেকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে আসছিল। তবে সরকারিভাবে এ ব্যাপারে বিধি নিষেধ বলবৎ থাকায় তারা দেরীতে হলেও সেই পুরনো পদ্ধতিতে বই বিক্রি করছে বিভিন্ন লাইব্রেরী বা দোকানিরা।

সচেতন অভিভাবক সহ এলাকবাসী জানান, সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকার সব ধরনের গাইড বই নিষিদ্ধ করলেও তালা উপজেলায় তা এক দিনের জন্য হলেও বন্ধ হয়নি। শুধু ধরন বদলেছে মাত্র। আগে প্রতিটি স্কুল থেকে প্রকাশ্যে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বুক লিষ্ট বা বই এর তালিকা দেয়া হত, আর এখন তা চুপিসারে শ্রেণি শিক্ষকদের মাধ্যমে অলিখিতভাবে সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন প্রকাশনীর পক্ষেও তাদের বইয়ের তালিকা সম্বলিত ক্লাস রুটিন সরবরাহ করছে।

স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অবিভাবক জানান, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধারে ১০/১২ বছর, কোন কোন ক্ষেত্রে তারও বেশী সময় চাকুরি করায় তারা স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এ সকল কর্মকান্ড তারা প্রকাশ্যে করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এদিকে কোন নজর দেন না। ওই সকল কোচিং সেন্টারে না পড়লে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় কম নম্বর দেয়া হয় বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। এক প্রকার বাধ্য হয়েই অবিভাবকরা এসকল অনৈতিক কর্মকান্ডে সমর্থন দিয়ে আসছেন। পুর্বের ন্যায় গাইড বই ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের সেই পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক স্তরে গাইড বই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে কেউ বিক্রি করছে কিনা সে ব্যাপারে তার জানা নেই। এমন বিক্রেতাদের কারো চোখে পড়লে বিষয়টি তাৎক্ষণিক তাকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তাই উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে গাইড বই সংক্রান্ত নীতিমালা বা আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবকরা।