তালায় তাপদাহ গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত, সুপেয় পানির তীব্র সংকট বাড়ছে

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা তালায় প্রচন্ড গরম আর তাপদাহে জনজীবন একেবারে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। গত ছয়/সাত দিন কোনও বৃষ্টি না হওয়ায় গরম অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাতাসের আদ্রতা কমে গেছে। এই তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরমে তালার মানুষ কাহিল হয়ে পড়েছে। সদ্য বিদায়ী মাহে রমজান মাসে ইফতারির জন্য তারা নগরীর ফুটপাত থেকে সংগ্রহ করছেন লেবু, ডাব, তরমুজ ও কাঁচা তাল। এছাড়া পাড়া মহল্লার দোকানগুলোতে খাওয়ার স্যালাইন খুঁজেছে সবাই। প্রচন্ড তাপদাহে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন ক্ষেতমজুর, কৃষি, শ্রমিক, দিনমজুর ও ভ্যানচালকসহ স্বল্প আয়ের মানুষ। গরমের কারণে তালা উপ শহরের সড়কগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানান, এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রের্কড হয়েছে এই কয়দিনে এবং বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এতো গরম পড়েছে।
অপরদিকে গ্রীষ্মের তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তালা উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানির প্রয়োজন তো অন্য কিছুতে মেটানো সম্ভব নয়। তাই, যেভাবেই হোক সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে মরিয়া গৃহস্থালিরা। প্রয়োজনের তাগিদেই উপজেলা সদরের আশপাশের বাসিন্দারা পানযোগ্য এক কলসি পানির জন্য কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ছুটে আসছেন তালা সরকারি কলেজ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ী সংলগ্ন ডিপ টিউবওয়েলে। তারপরই মিলছে কাঙ্খিত পানি। আর যারা ক্লান্ত শরীরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে না পারছেন তাদের নগদ টাকার বিনিময়ে কিনতে হচ্ছে খাবার পানি। এভাবে গ্রীষ্মে খাবার পানি সংগ্রহে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাদের।
তালা উপজেলার সর্বত্রই কৃষি কাজের জন্য অতিমাত্রায় সেচ পাম্প দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। ফলে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে উপজেলার মহান্দী, খলিলনগর, নলতা, গোনালি, বারইহাটি, শাহাপুর, খড়েরডাঙা, শিবপুর, গোপালপুর, দোহার আটুলিয়া, শ্রীমন্টকাটি, মাগুরা, ইসলামকাটি গ্রামের বাসিন্দারা কলসি, ড্রাম, বোতল নিয়ে সাইকেল, মটরসাইকেল ও ভ্যান যোগে ছুটছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসা ও সরকারি কলেজ অভিমুখে। সেখানে গিয়ে মিলছে পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া মানুষের লম্বা লাইন। অনেক সময় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার পর মিলছে কাঙ্খিত পানি। এদিকে তালা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা পানি কোম্পানিতেও ভিড় করছেন স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন। কিন্তু সেখানেও চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহ, খরা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ সঙ্কট ঘনীভূত হচ্ছে। আগামি কয়েক বছরে এ সংকট আরো ব্যাপকতা লাভ করবে। তাই এখন থেকেই বিকল্প পথে মানুষকে সুপেয় পানি সরবরাহে সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে।