তালায় টিআরএম প্রকল্পের অধিকাংশ জমির মালিকরা ৫ বছরের ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি

এস এম হাসান আলী বাচ্চু,তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্পভূক্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা গত ৬ বছরে মাত্র একবার ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেও বাকী ৫ বছরের টাকা আজো পায়নি। ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খনন কাজের সাথে সাথে ৬৫০ হেক্টর জমির আয়তনের পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্প শুরু হয়। শুরু থেকে সরকারের অধিগ্রহনকৃত জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ বাৎসরিক শতক প্রতি ৬হাজার ২শ ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ৬ বছরে মাত্র একবার প্রায় ৮০ শতাংশ জমির মালিককে টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অধিগ্রহনকৃত এলাকায় ৩৪টি পরিবারকে পুনর্বাসনের কোন পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোকে স্থানীয় এনজিও উত্তরনের অর্থায়নে এবং সহযোগিতায় পূনর্বানসন করা হলেও সরকারীভাবে তাদের ভাগ্যে শুধু টিন এবং সোলার জুটলেও আজো সরকারীভাবে ঐ পরিবারগুলোর দলিল হস্তান্তর করা হয়নি। এছাড়া এ বিলের উপর নির্ভরশীল ৪৮৬টি পরিবারেরর জনগোষ্ঠীর অভাব অনটনের প্রেক্ষিতে জীবন জীবিকার মানোন্নয়নে সরকারীভাবে মাত্র ৫০টি পরিবারকে একটি করে সোলার প্যানেল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরণের পক্ষ থেকে প্রশাসন এবং কর্মসূচীসহ জীবিকা প্রার্থীদের জীবন জীবিকার মানোন্নয়নে মোট ১ কোটি ৭লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একদিকে হতদরিদ্রদের জীবন জীবিকার মানোন্নয়নের একটা ব্যবস্থা হলেও পাখিমারা বিলের ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা আজো না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে পাখিমারা বিলে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের তহবিলে এ পর্যন্ত পাউবি ২ বছরের ক্ষতিপূরনের টাকা জমা দিয়েছেন। প্রথম দফায় এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সহজ শর্তে শতকরা ৮০ ভাগ জমি মালিকদের ১ বছরের টাকা পরিশোধ করেছেন। পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত আইনী জটিলতায় জমির মালিকরা আর কোন টাকা পাননি। দীর্ঘ ৬ বছরের মধ্যে ১ বছরের টাকা পরিশোধের পর জমির মালিকদের নিকট থেকে ভুমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবার নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদনের মধ্যে জুড়ে দেয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। তবে খাসজমি বা একসনা বন্দোবস্তের জমির ব্যপারে কোন দিকনির্দেশনা চোখে পড়েনি। এরই মধ্যে পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্পের মেয়াদ আরো ২ বছর বাড়ানো হয়েছে বলে জানান পাউবির দায়িত্বশীল সূত্র। এব্যপারে পানি উন্নয়ন রোর্ড কেশবপরের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সাঈদুর রহমান প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে বলেন এ পর্যন্ত পাখিমারা বিলে ক্ষতিগ্রস্থ জমি মালিকদের ২ বছরের টাকা জেলা প্রশাসকের তহবিলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আরো ৮ কোটি টাকার চেক এসেছে আগামী সপ্তাহে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দেয়া হবে।
তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ লিটন আলী জানান, এ পর্যন্ত পাখিমারা বিলে ১ হাজার ১শ ৮জন জমির মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন। এরমধ্যে ১শ ৩০টি আবেদন চুড়ান্ত করে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে এবং ৫০টি চলমান আছে। পর্যায়ক্রমে আইনানুগভাবে যতটা সম্ভব কাজ করে যাচ্ছি।
বিয়য়টি নিয়ে আজ বেলা ১১টায় পাটকেলঘাটাস্থ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে পাখিমারা বিলের টিআরএম প্রকল্পভুক্ত এলাকায় জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে জমি মালিকদের সহায়তা প্রদান ও এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টি বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। তালা উপজেলা ভূমি প্রশাসনের আয়োজনে এবং উত্তরণ এর সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ লিটন আলীর সভাপতিত্বে উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কেশবপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাঈদুর রহমান, উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলাম, অধ্যাপক হাশেম আলী ফকির, ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সদস্য আয়ুব আলী সানা, ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব হোসেন রাজু, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি, উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার দীলিপ কুমার সানা, ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা অসীম কুমার দে, জাসদনেতা বিশ্বাস আবুল কাশেম ও সাংবাদিক আশরাফ আলী প্রমুখ। বক্তারা পাখিমারা বিলের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সহজ শর্তে ক্ষতিপূরণের আহবান এবং মুল চ্যানেলের নেট পাটা অপসারনের দাবী জানান।