তালায় জেলা আ.লীগের সভাপতি ও সম্পাদক ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : তালায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম প্রায় ৩ ঘন্টা যাবৎ তালা উপজেলা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীদের দ্বারা অবরুদ্ধয় পড়েন। পরবর্তিতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তালায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শনিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় তালা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার আহবান করা হয়।

বর্ধিত সভায় তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারের পরিচালনায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি এম মনসুর আহমেদ।

বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম। বর্ধিত সভায় তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং ১০৮টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদ্বয়রা অংশগ্রহণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সভায় আওয়ামী লীগের একাংশ প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম ও তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম দুপুর দেড়টার দিকে সভাকক্ষ ছেড়ে নিজ নিজ গাড়িতে করে সভাস্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। এ সময় একাংশের নেতাকর্মীরা তাদের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে এবং তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

অবরুদ্ধকারীরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম জানান, বর্ধিত সভায় এক গ্রুপ চায় ভোটের মাধ্যমে উপজেলা প্রার্থী চূড়ান্ত করতে, আরেক গ্রুপ চায় ভোট ছাড়াই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থীতা চূড়ান্ত করতে। আমরা বলেছিলাম সাতক্ষীরায় ফিরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। কিন্তু আমরা সভাস্থল থেকে গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে পক্ষ ভোট চায় তাদের সমর্থকেরা গাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত থাকলেও তারা অনেকখানি নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে।