তালায় গ্রাম আদালতের সাফল্যে হামিদার মুখে হাসি

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কম খরচে অল্প সময়ে ন্যায় বিচার পাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন গ্রাম আদালতমূখী হচ্ছে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে যে কোন বিরোধ এবং বিচার প্রাপ্তির জন্য সাধারণ মানুষ থানা অথবা আদালতের স্বরনাপন্ন হতো। একদিকে যেমন বিচার প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো তেমনি অপর দিকে আর্থিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হতো সাধারণ মানুষের।

বর্তমান সরকার ২০১৭ সালে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলমান আছে। ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটুর সততা, সাহসীকতা ও সঠিক ন্যায় বিচারের কারণে আর এই কার্যক্রমের উপড় ভিত্তি করে পুর্বের তুলনায় বর্তমানে বেশি ঝুকছে তালার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত বিষয়ক সহকারী মো: ওয়ালিদ হোসেন অপুও মামলা নেওয়া এবং হাজিরার বিষয়ে আন্তরিকতা থাকায় গরীব অসহায় মানুষ আসছে গ্রাম আদালতে।

তেমনি এক অসহায় মহিলা জেঠুয়া গ্রামের মোঃ সোহরাব গাজীর স্ত্রী হামিদা বেগমের সাথে কথা বললে সে বলেন, ‘আমি ৬/৭ বছর পূর্বে জনৈক মোস্তফা সরদার এর কাছ থেকে জমি বন্ধক রেখেছিলাম স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে ত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রথম বছর ধান চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম। কিন্তু তার পরের বছর সরকার বাহাদুর টি,আর,এম প্রকল্পের আওতায় থাকায় আমি আর চাষাবাদ করতে না পারায় মোস্তফা সরদার এর কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে সে কিছু সময় লাগবে বলে ৩/৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও টাকা দেন নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৭ সালের জুলাই মাসে গ্রাম আদালত বিষয়ক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জানতে পারি গ্রাম আদালতের কথা। তারপর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে আমার বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান লিটু সাহেবকে জানালে তিনি গ্রাম আদালতে একটি মামলার করার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ মোতাবেক আমি একটি মামলা করি। আমার কাছ থেকে মাত্র মামলার ফিস বাবদ ২০ টাকা নিয়েছিলো। আমি অবাক হলাম এত কম টাকা ব্যায়ে টাকা আদায় হবে। এক সপ্তাহ পর আমার মামলার দিন পড়লো। মোস্তফা সরদার টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেন এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমাকে টাকা পরিশোধ করলেন।’

মিদা বেগম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে টাকা দিচ্ছিলো না, সে এত সহজে টাকা ফেরৎ দিবে এটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এই টাকা পেয়ে আমি ৯ হাজার টাকা দিয়ে পুনরায় অন্য জায়গায় ৯ শতক জমি বন্ধক রেখেছি, সেখানে ধান চাষ করেছি এবং বাকি ১১ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করে লালনপালন করছি যার বর্তমান মূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা হবে। এখন আমি ভাল আছি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আমার উপকারের কথা আমি আরও অনেককে বলেছি তারাও গ্রাম আদালতে গিয়ে সুবিচার পেয়েছেন। আমাদের মত গরীব মানুষের সুবিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালত অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে।’

Inline
Inline