তারা দাতা নয় ঋণদাতা সংস্থা : অর্থপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশি অর্থ সহায়তা দানকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠান দাতা সংস্থা নয়, তারা ঋণদাতা সংস্থা বা দেশ। আমরা শর্তের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ পেয়ে থাকি। আবার পরিশোধের শর্তে অর্থ পেয়ে থাকি। সুতরাং তারা দাতা নয়, ঋণদাতা দেশ বা ঋণ সহায়তা সংস্থা বলতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থপ্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৮তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অনেক সংস্কারমূলক কাজ করে যাচ্ছে। প্রাইভেটখাতকে আরও সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু কারো কাছে হাত পাতব না।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচবিএম ইকবাল বলেন, ‘আমরা প্রথম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় মতিঝিল থেকে বাইরে এনেছি। আমরাই প্রথম অল্প পরিসরে ১৩ জন পরিচালক নিয়ে ব্যাংক শুরু করেছিলাম। যেখানে অন্যান্য ব্যাংকের ২৫ জন থেকে ৩০ জন ছিল। আমরা প্রথম শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছিলাম।’
মানুষ যখন সঠিকটা বুঝে না তখন সমালোচনা করে করে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আট বছর পর সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করে দেয় ১৩জন পরিচালক থাকতে হবে তার বেশি নয়। এখন অনেক ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলের বাইরে নিয়ে আসছে। আমরাই এই ট্রেন্ড চালু করি।’
ভৈরবে তিনশ বিঘা জমির উপর প্রিমিয়ার ব্যাংক এডুকেশন সিটি করছে জানিয়ে ইকবাল বলেন, ‘শুরুতে আমরা পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ব্যবস্থা করা হবে। তার জন্য প্রথমত পাঁচশ কোটি টাকা রাখা হয়েছে গরীবদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য। সেখানে কোনো ব্যাংকিং কার্যক্রম নেই সেটিও আমরা সেখানে নিয়ে যাচ্ছি।
ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা কর্পোরেট ব্যাংকিং থেকে রিটেইল ব্যাংকিং খাতে চলে যাচ্ছি। আমরা একশ কোটি টাকা একজনকে না দিয়ে একশ জনকে দিতে চাই। আমরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে উন্নয়ন করতে চাই।
সামনে ব্যাংকটি একশটি বুথ গঠন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক অল্প অল্প করে গ্রোথ করছে। বিগত বছরগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে গ্রোথ অব্যাহত।
ব্যাংকটির শুরুতে আমাদের ৩৭ জন কর্মকর্তা ছিল বর্তমানে এক হাজার সাতশ কর্মকর্তা রয়েছে। যাদের প্রত্যেকের বেতন দুই লাখ থেকে আড়াই লাখের মধ্যে।
আবুল বাশার বলেন, জনগণের সেবা ও জাতীয় উন্নয়নে অবদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও নতুনত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সামনের দিনগুলোতে তৃনমূল পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা পৌছে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে কেক ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এম ইমরান ইকবাল, পরিচালক বি এইচ হারুন, এমপি সালাম মুর্শেদী, প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান মঈন ইকবাল, পরিচালক জামাল জি আহমদ, উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও খোন্দকার ফজলে রশিদ, কনসালটেন্ট এহসান খসরু, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রিয়াজুল করিম, ব্যাংকের ডিএমডিগণসহ ব্যাংকের অনেক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা।