তাইজুলের পাঁচ উইকেটের হ্যাটট্রিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিলেট টেস্টের পর ঢাকাতেও উজ্জ্বল টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সিলেটে দুই ইনিংসে তিনি শিকার করেছিলেন মোট ১১টি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৬টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচটি করে উইকেট শিকার করেন তিনি। সিলেটে টানা দুই ইনিংসে পাঁচটি উইকেট শিকারের পর ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসেও তিনি নিলেন পাঁচ উইকেট। টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসাবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন তাইজুল। এর আগে এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসান এই কীর্তি অর্জন করেন।

মিরপুরে গত রবিবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচ। ম্যাচের প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। রবিবার পুরো দিন ব্যাট করে টাইগাররা। সোমবার দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ সাত উইকেটে ৫২২ রান।

সোমবার শেষ বিকালে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। শুরুতেই আঘাত হানেন তাইজুল। হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিন শিকার করেন আরো চারটি উইকেট। প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলামের বোলিং ফিগার ৪০.৩ ওভারে ১০৭ রানে ৫ উইকেট।

সিলেটে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ১৫১ রানে। সিলেটে এক পেসার নিয়ে খেলার জন্য অনেক কথা উঠেছিল। প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দলে ফেরানো হয় ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমানকে। মোস্তাফিজ ছাড়াও ঢাকা টেস্টে অভিষেক হয়েছে পেসার খালেদ আহমেদের। কিন্তু কী হলো তাতে? দীর্ঘ নয় মাস পর সাদা-পোশাকে ফিরে বিবর্ণ মোস্তাফিজ। অভিষেক হওয়া খালেদের বলেও তেমন কিছু দেখা যায়নি। বরং সিলেটের মতো ঢাকা টেস্টেও রং ছড়িয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তাইজুলের পাশাপাশি দারুণ ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজও। কিন্তু কেন? উত্তরটা হলো মিরপুরের উইকেট। মূলত উইকেটের রহস্যময় আচরণে বিবর্ণ খালেদ-মোস্তাফিজ।

খালেদ-মোস্তাফিজ বিবর্ণ থাকলেও তাইজুলের পাশাপাশি আলো ছড়িয়েছেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। সকালের সেশনে ব্রায়ান চারিকে ও বিকালের সেশনে সেঞ্চুরি করা টেইলকে (১১০) এবং মাভুতাকে (০) সাজঘরে ফেরান এই উঠতি তারকা।

মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩০৪ রানে। মূলত তাদের নয় উইকেটের পতন হয়। কিন্তু টেন্ডাই সাতারা ইনজুরির কারণে ব্যাট করতে নামতে পারবেন না। জিম্বাবুয়ে ফলো অন এড়াতে পারেনি। ফলো অন এড়াতে হলে তাদের ৩২৩ রান দরকার ছিল। কিন্তু ৩০৪ রানেই তাদের ইনিংস শেষ হয়।

জিম্বাবুয়ের নয়টি উইকেটের মধ্যে তাইজুল ইসলাম ৫টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি ও আরিফুল হক ১টি করে উইকেট শিকার করেন। আর সেখানে ২১ ওভার বল করে ৫৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন মোস্তাফিজ। আর ১৮ ওভার বল করে খালেদ আহমেদও উইকেটশূন্য থাকেন। কিন্তু এই উইকেটেই জিম্বাবুয়ের পেসার কাইল জারভিস পাঁচটি উইকেট শিকার করেন।

উইকেটের কথা চিন্তা করলে মোস্তাফিজ-খালেদের বিবর্ণ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মিরপুরের উইকেট রহস্যময় সেটা সবার জানা। যেমন: টেস্টের প্রথম দুই দিন জিম্বাবুয়ের পেসাররা সুবিধা পেয়েছেন। বাংলাদেশের ইনিংসে যে সাতটি উইকেট পড়েছে তার সবকটিই নিয়েছিলেন পেসাররা। কিন্তু তৃতীয় দিনের চিত্র পুরোই উল্টো। উইকেট স্পিন সহায়ক। তাই সুযোগ পাচ্ছেন তাইজুল-মিরাজরাই। আর বিবর্ণ হয়ে আছে খালেদ-মোস্তাফিজ।

অবশ্য তৃতীয় দিন যে উইকেট স্পিন সহায়ক হবে সেটার আভাস সোমবার দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিন শেষে মুশফিক বলেছিলেন, ‘উইকেট আস্তে আস্তে ডিটেরিয়েট হচ্ছে। কাল (সোমবার) আরও উল্টা পাল্টা হবে। এই জন্য প্রথম ইনিংসটা যতো বড় করা যায় সেই চেষ্টা আমরা করেছি।’