ঢালাইয়ের পরপরই ভেঙে পড়ল ছাদ

শেরপুর সংবাদদাতা ; শেরপুরের নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বাছুর আলগা গ্রামে নির্মাণাধীন পল্লী বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের পর ধসে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ছাদ ঢালাই করায় ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এদিকে ছাদ ধসের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্মাণাধীন ভবনটির তিন দিকে কাপড় টানিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি করে আবারো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাদ ধসের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেনি। সাটারিং কাজে ব্যবহৃত বাঁশের স্ট্রেন্থ (সহন ক্ষমতা) কম হওয়ায় পুরনো বাঁশ পরিবর্তন করে নতুন করে শক্ত বাঁশ দিয়ে সাটারিং করা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতই মন্তব্য করেছেন। তারাও বলছেন, সাটারিংয়ের বাঁশের সহনশীল ক্ষমতা কম থাকায় কিছু সমস্যা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুতের ভবনটির দোতলার ছাদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। রবিবার সন্ধ্যার পরপরই ছাদটি বাঁশের সাটারিংসহ ধসে পড়ে।

ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজে কাজটি না করে এমদাদ হোসেন নামে একজনকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি করাচ্ছেন। কাজের কোনো তদারকি নেই। তারা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ করছেন। তাই ছাদ ধসের মতো ঘটনা ঘটেছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ‘সাপ্লাই ইন্সটলেশন টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং অব ৩১/১১ কেভি সাবস্টেশন’ নির্মাণ কাজ চলছে শেরপুরের নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বাছুর আলগা গ্রামে।

সাব-স্টেশনটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। সানরাইজ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্যাকেজের মধ্যেই ২২ ফুট বাই ৩৪ ফুট আয়তনের ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছে। যার প্রথম তলার উচ্চতা ১০ ফুট এবং দ্বিতীয় তলার উচ্চতা ১৩ ফুট।

তবে ছাদ ধসে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানরাইজ এন্টারপ্রাইজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুনতাসির মামুন। তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে ছাদ ঢালাই কাজ করার কথা ছিল। তখন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাটারিং কাজে ব্যবহৃত বাঁশের মান ভালো নয় বলে আপত্তি করেন। তিনি সেগুলো পরিবর্তন করতে বলায় আমরা সেইসব বাঁশ সরানোর কারণে ছাদ ধসে পড়ার গুজব ছড়িয়েছে। এখন আমরা নতুন করে ভালো বাঁশ এনে আবারো কাজ শুরু করছি।’

তাহলে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু একটি রিওমার (গুজব) ছড়িয়েছে ছাদ ধসে পড়ার। এজন্য লোকজনের আনাগোনা কমাতে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ছাদ ধসের ঘটনা জানার পর পরিদর্শন করে দেখেছি। কাজের গুণগত মান ভাল না। তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে মানা করেছি। আমি কাপড় সরিয়ে জনসমক্ষে কাজ করতে বলেছি।’

জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জামালপুর প্রকল্প বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আহাম্মেদ আলী জানান, ‘৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এ কাজে ভবনের ব্যয় ৩০ লাখ টাকা। কাজ ভাল হচ্ছে। সাটারিংয়ের দুর্বল বাঁশের কারণে ছাদ ঢালাই নিয়ে সমস্যা হয়েছে। ঠিকাদার বলেছেন, তারা আমাদের ভালোভাবে কাজ বুঝিয়ে দেবেন।’