ঢাবিতে কার্লমার্কস চর্চা করা গেলে, মহানবীর আদর্শ চর্চা নয় কেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি আশরাফ আলী আকন।

 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো, জ্ঞান চর্চা, উৎপাদন ও বিতরণ, একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি চর্চার উন্মুক্ত প্রান্তর। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মত ও পথের আলোচনা হবে, চর্চা হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাধীন বিচার-বিবেচনা ব্যবহার করে নিজস্ব মত ও পথ গ্রহণ করবে। কোন আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা বা প্রতিহত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হতে পারে না। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামী রাজনীতি চর্চার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে তারা কোন ইসলামী সংগঠনকে আমন্ত্রন জানায়নি বরং ইশা ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করার পরেও তারা আমাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয় নাই।

 

আজ (১১ জানুয়ারি) রোজ আইএবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ইশা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল এম. হাছিবুল ইসলাম প্রমুখ।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ইশা ছাত্র আন্দোলনকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ না দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলদের মতো আচরন করেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিসির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ক্যাম্পাসে আমাদের কথা বলতে দিন, আমরা আমাদের কথা বলি, সমাজতন্ত্রীরা, গণতন্ত্রীরা তাদের কথা বলুক, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে যার যা ইচ্ছা সেটা গ্রহণ করবে। কারো মত প্রকাশে বাধা দেয়ার মতো প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করবেন না, ক্ষমতা দিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করার মতো পাশ্চাৎপদ আচরণ করবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়কে কুপমন্ত্রকতায় আচ্ছন্ন করবেন না।

 

সভাপতির বক্তব্যে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ৯০% মুসলমানের করের টাকায় পরিচালিত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্লমার্কসের আদর্শ চর্চা করা যায়, পশ্চিমা গণতন্ত্রের চর্চা করা যায় অথচ মুসলমানদের হৃদয়ের স্পন্দন মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ চর্চা করা যাবে না এটা বরদাস্ত করা হবে না।