ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধায় প্রথমকে বাদ দিয়ে নবমকে শিক্ষক নিয়োগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষায় পক্ষপাত করে অধিকতর মেধাবি প্রার্থীকে বাদ দিয়ে মেধাক্রমে অনেক পিছিয়ে থাকা প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করার অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীারা জানায়, সোমবার উপ উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরিন আহমাদের কক্ষে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তুলনামূলকভাবে অধিকতর মেধাবী, ডবল ফার্স্ট, বিভাগের সর্বোচ্চ জিপিএ ধারী, এমনকি বিদেশি ডিগ্রিধারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে মেধাক্রমে অনেক পিছিয়ে থাকা প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়।

ডিন কর্তৃক বাছাইকৃত এই প্রার্থীর নাম এস এম ফাইজুল হক ইশান, তার অনার্স এবং মাস্টার্স এর সিজিপিএ যথাক্রমে ৩.৫৮ এবং ৩.৭৫ (মেধাক্রম নবম)। সাদেকা হালিম আলোচ্য প্রার্থীর থিসিস সুপারভাইজার ছিলেন বলে জানানো হয়। অন্যদিকে নিয়োগপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম (বিএসএস-৩.৬৬, মেধাক্রম ১ম, এমএসএস ৩.৮২ মেধাক্রম ১ম), মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন (বিএসএস ৩.৭৬, মেধাক্রম ১ম, এমএসএস ৩.৯২ মেধাক্রম ১ম), এবি এম নুরুল্লাহ (বিএসস ৩.৭৩, মেধাক্রম ২য়, এমএসএস ৩.৭৫, মেধাক্রম ২য়), শেখ রুকাইয়া হাসান (বিএসএস ৩.৭১, মেধাক্রম ১ম, এমএসএস ৩.৭৩, মেধাক্রম ২য়) তৌহিদ হোসেন খান (অনার্স এবং মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান এবং তিনি কানাডার বোরোক ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে জানা যায়।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী বলেন, ‘১৫ জন অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে পেছনে ফেলে ফাইজুল হক ইশানকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। ডিনের একক প্রভাবে এটি সম্ভব হয়েছে বলে অভিযোগ মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের।

জানতে চাইলে অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘এখানে নির্দিষ্ট শর্তের বাইরে কাউকে সিলেক্ট করা হয়নি। সবদিক বিবেচনায় যিনি যোগ্য তাকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এটি আমার একার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান উপ উপাচার্য অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক নাসরিন আহমাদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।