ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা : সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অসুস্থ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কারখানাটির অন্যান্য শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লায় অবস্থিত প্রাইড গ্রুপের এইচআর টেক্সটাইল কারখানায় মো. রাশেদুল নামে এক শ্রমিক মারা যান। রাশেদুল কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার জায়গীর গ্রামের মঞ্জুর মুন্সির ছেলে। তিনি উলাইল এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে এইচআর টেক্সটাইল কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের সহকর্মী মাজেদা বেগম জানায়, দুপুরের খাবার খেয়ে অফিসে এসে কাজ করতে বসার কিছুক্ষণ পরই মাথা ব্যথা ও বমি করতে থাকেন রাশেদুল। তাকে কারখানার নিজস্ব মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ব্যথার ওষুধ দেন। ওষুধ খাওয়ার পরও শরীর ঠিক না হওয়ায় তিনি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কারখানার পিএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে ছুটি চান। পর্যায়ক্রমে ফ্লোর ইনচার্য জুলহাস এবং এপিএম রুবেলসহ সবার কাছেই ছুটি চেয়ে ব্যর্থ হন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন রাশেদুল। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রমিকদের মাঝে রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর তিনটা থেকে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন তারা। দোষীদের বিচারের দাবিতে এক ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা।

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে বিকাল চারটার দিকে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরে যায়। পরে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক চলার পর বিষয়টি সমাধান না হলে বিকাল পাঁচটার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে। এর ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভের সময় শ্রমিকরা ঘটনার সঙ্গে দায়ীদের বরখাস্তসহ বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া নিহতের দেড় বছরের একটি বাচ্চা থাকায় তার ভবিষ্যতের জন্য নগদ ১০ লক্ষ টাকা এবং রাশেদুলের যাবতীয় পাওনা পরিশোধেরও দাবি জানায়।
শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. হারুন উর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকরা নগদ চার লাখ টাকা দাবি করেছে কিন্তু মালিকপক্ষ দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের কারণে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে।