ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সই না করতে রাষ্ট্রপতিকে আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু সংবাদ মাধ্যমের জন্যে নয়, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মীদের জন্যও আতঙ্কজনক দাবি করে এই আইনে স্বাক্ষর না করতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপিপন্থী সাংবাদিক নেতারা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বিএনপিপন্থী অংশের নেতারা এক অবস্থান কর্মসূচিতে এই দাবি জানান।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, এই আইনের প্রয়োগ শুরু হলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান তারা। এই কালো আইন দ্রুত বাতিল করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

সরকার বিরোধীদের দমন করার জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য আইন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করছেন বিএফইউজে সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী।

রুহুল আমীন গাজী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সবাই সোচ্চার ছিলেন। সবাই প্রথম থেকেই এর বিরোধীতা করছেন। আজকে সারা বাংলাদেশে সকল সাংবাদিক সংগঠন এই কালো আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সোনার ছেলেরা হেলমেট পরে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের হামলা করছিলো কিন্তু আপনি তার কোনো বিচার করেননি। আপনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্য এই কালো আইন প্রণয়ন করেছেন। আপনি আজ এই আইন পাস করেছেন এটা কখনো এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

সোমবারে আবারো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়ে গাজী আরো বলেন, গুম খুন লুটপাটের এ দেশে এই আইন বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদে এই কালো আইন পাশ করা হয়েছে। এই কালো আইনটি সংবিধান বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী জংলি আইন। মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এ আইন। বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার মানুষের কথা বলার অধিকার হরন করা হবে এই কালো আইনের মাধ্যমে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের প্রতিবাদে প্রতিবছর ১৯ সেপ্টেম্বর ঘৃণা দিবস পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি উদ্দেশ্যে গাজী বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে আহ্বান করেছি যে আপনি এই আইনের স্বাক্ষর করবেন না। এ কালো আইনে স্বাক্ষর না করে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসাবে অন্তত একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। তা না হলে কিভাবে আমরা বুঝবো আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।

‘আজ সরকারের পক্ষে অবস্থানকারী সাংবাদিকরা চুপ করে তামাশা দেখছেন। যতদিন পর্যন্ত এই কালো আইন বাতিল করা না হবে যতদিন পর্যন্ত আমার দেশ, দিগন্ত, ইসলামি টিভি খুলে না দেয়া হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

বিএনপিপন্থী এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘এই সরকারের আমলে সাগর-রুনিসহ মোট ৩৩ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এসব হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না। এজন্য হত্যাকারীরা সাহস পাচ্ছে।

সাংবাদিক নেতা এম আব্দুল্লাহ বলেন, ডিজিটাল আইন যেটা করা হয়েছে সেটা অত্যন্ত জঘন্য এবং ঘৃণিত আইন। এ আইনের আওতায় কেউই রক্ষা পাবেন না কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই স্বৈরচার সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা রাজপথ ছাড়বো।

আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মত প্রকাশ বা ভাব প্রকাশের যে অধিকার এই কালো আইনের মাধ্যমে সে অধিকারটুকো জঘণ্যভাবে হরণ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

Inline
Inline