ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই বছর পর জয়, শপথ নিলেন চেয়ারম্যান

জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউপি নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হক বাবু নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে নির্বাচিত ঘোষিত হয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তিনি শপথ নিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ কবীর তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

জানা গেছে, মেষ্টা ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. জামিনুর ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. নাজমুল হক বাবু আনারস প্রতীকে পেয়েছিলেন ৭ হাজার ২০০ ভোট। পরবর্তীতে পরাজিত প্রার্থী মো. নাজমুল হক ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নয়টি কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনা করার জন্য জেলা জজ আদালতের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক গত ২৮ মে মামলাটির বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে পুনরায় ভোট গণনা করে সন্দেহাতীতভাবে আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. নাজমুল হক বাবুকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের গণনায় নাজমুল হক বাবু পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৭৭ ভোট এবং নৌকা প্রতীকের মো. জামিনুর ইসলাম তালুকদার পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৫৪ ভোট। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন যথারীতি গ্যাজেটও প্রকাশ করেছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের আদেশের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে রায়ে নির্বাচিত প্রার্থী প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিলে জেলা প্রশাসক সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তার কার্যালয়ে মো. নাজমুল হক বাবুকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এ দিকে ট্রাইব্যুনালের রায়ে পরাজিত প্রার্থী মো. জামিনুর ইসলাম তালুকদার আপত্তি জানিয়ে একই আদালতে আপিল আবেদন করেছেন। আগামী ১ আগস্ট ওই আপিলের শুনানির দিন ধার্য্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার আপিলের কপি জেলা প্রশাসককে দিয়ে পর্যালোচনা করার জন্য বলেছি। কিন্তু উনি আমার কোনো কথাই শুনলেন না।

শপথ অনুষ্ঠানের পর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, ‘মো. জামিনুর ইসলাম তালুকদার ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আপত্তি দিয়েছেন। এটা ঠিকই আছে। উনি আপিল করতে পারেন। কিন্তু উচ্চ আদালত ওই আপিলের প্রেক্ষিতে নি¤œ আদালতের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাই উচ্চ আদালতের রায় বহাল রাখতে কোনো আইনগত বাধা নেই। এ জন্যই মো. নাজমুল হক বাবুর শপথ সম্পন্ন হলো।’

Inline
Inline