টানা সপ্তম সিরিজ হারল হাথুরুর শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রিকেট মাঠে একের পর এক ব্যর্থতার সাক্ষী হয়েই যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা বিশ ওভারের ক্রিকেট- কোনো ফরম্যাটেই সুবিধা করতে পারছে না চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। ব্যর্থতার পাল্লা আরেকটু ভারী করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে শ্রীলঙ্কা।

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়েছিল লঙ্কানদের। নেলসনে সিরিজের শেষ ম্যাচে মেলেনি স্বান্ত্বনার জয়টিও। নিউজিল্যান্ডের করা ৩৬৪ রানের পাহাড়ের জবাবে সফরকারীরা অলআউট হয়ে গিয়েছে মাত্র ২৪৯ রানে। প্রথম দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতায় এ ম্যাচে কিউইদের জয়ের ব্যবধানটা ১১৫ রানের।

এ নিয়ে টানা সপ্তম সিরিজ হারল হাথুরুসিংহের দল। সবশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে অপরাজিত ছিলো শ্রীলঙ্কা। সে সিরিজ যে তারা জিতেছিলো এমনটিও নয়। বৃষ্টির কারণে এক ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল ৩ ম্যাচের সে সিরিজ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার সিরিজ জয় পেতে হলে ফিরতে হবে ২০১৬ সালের জুন মাসে। যেখানে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। এরপর টানা ১১ সিরিজ ধরে জয় পাচ্ছে না ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এসময়ের মধ্যে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে তারা।

এতসব হতাশার মাঝেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা স্বান্ত্বনার জয়টি পেতে খেলতে নামে ৩৬৫ রানের পাহাড় ডিঙোনোর মিশনে। রান তাড়ায় তাদের শুরুটা বেশ ভালো করেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান নিরোশাল ডিকভেলা, ধনঞ্জয় ডি সিলভা এবং কুশল পেরেরা।

মাত্র ১৪ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান করে ফেলেছিল তারা। ডিকভেলা ৪৬, ডি সিলভা ৩৬ ও কুশল ৪৩ রান করলেও নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। যে কারণে রানরেট ঠিক থাকলেও কাজের কাজ করা হয়নি লঙ্কানদের। কুশল মেন্ডিস ০ এবং দাশুন শানাকা ২ রান করে আউট হলে আরও কঠিন হয়ে পড়ে দলের অবস্থা।

দানুশকা গুনাথিলাকাকে সঙ্গে নিয়ে খানিক লড়াই করেন থিসারা পেরেরা। কিন্তু দুজনের ১০১ রানের জুটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা পেরেরা এ ম্যাচে খেলেন ৮০ রানের ইনিংস। গুনাথিলাকার ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান।

এ দুইজনের বিদায়ের পর মাত্র দুই রানের শেষের ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন লকি ফার্গুসন। এছাড়া লেগস্পিন ঘূর্ণিতে ৩ উইকেট যায় ইশ সোধির নামে।

এর আগে নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। আমন্ত্রণ পেয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা তেমন ভালো করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৩১ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার কলিন মুনরো এবং মার্টিন গাপটিল।

তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এবং অভিজ্ঞ রস টেলর। দুজন মিলে যোগ করেন ১১৬ রান। দলীয় ১৪৭ রানের মাথায় উইলিয়ামসন ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

উইকেটে আসেন নিকলস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে কার্যত লঙ্কানদের ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন নিকলস এবং টেলর। মাত্র ১২০ বলে ১৫৪ রানের জুটি গড়ে ৪৬ ওভারেই দলীয় ৩০০ পূরণ করেন এ দুজন। সেঞ্চুরিও তুলে নেন দুজনই।

দলীয় ৩০১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২০তম সেঞ্চুরি করে আউট হন টেলর। ১৩১ বলে ৯ চার এবং ৪ ছক্কার মারে ১৩৭ রান করেন তিনি। টেলর আউট হওয়ার পরের ২২ বল থেকে আরও ৬৩ রান করে স্বাগতিকরা। যার পুরো কৃতিত্ব হেনরি নিকলসের।

মাত্র ৭১ বলে পূরণ করেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। সবমিলিয়ে মাত্র ৮০ বলে ১২ চারের সাথে ৩ ছক্কায় ১২৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। জিমি নিশামের ব্যাট থেকে আসে ৬ বলে ১২ রান। স্যাক্সটন ওভালে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ৩৬৪ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।