ঝিনাইদহে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে কৃষকরা

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কৃষকরা বৈশাখ মাস জুড়েই ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাইতো পাকা সড়ক আর বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে এখন চোখে পড়ছে মহাদুর্ভোগের চিহ্ন। ক্ষেতের জমিতে পানির উপর ভাসছে পাঁকা ধানের আঁটি। ভেজা ধান তুলে এনে কৃষকরা পাকা রাস্তার উপর মাড়াই ও শুকিয়ে ঘরে তুলছে। এই দুর্ভোগ কৃষকের মনে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
ঝিনাইদহের সিমান্ত এলাকার জীবনা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে মিলন মিয়া জানান, পানির নিচে থাকার কারণে ধানের রং খারাপ হয়ে গেছে। এ জন্য বাজারে দাম পাচ্ছে না। তাছাড়া শহর এলাকায় এক বিঘা ধান কাটতে লাগছে ৬ হাজার টাকা। আর গ্রামে ৩৫’শ টাকা। তাও জোন (কামলা) পাওয়া যাচ্ছে না।
ঝিনাইদহ সদরের আসাননগর গ্রামের কৃষক সুবল কুমার জানান, এবার কৃষকরা বিচেলি বিক্রি বাবদ কোন অর্থ ঘরে তুলতে পারবে না। বৃষ্টির কারণে বিচেলি করা যায়নি। তাই বিঘা প্রতি কৃষকের লোকসান যাবে প্রায় ৬ হাজার টাকা। বাজারে ধানের দাম ইতিমধ্যে পড়ে গেছে। এক হাজার টাকা মন ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৬০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য জাতের ধানের দাম সাড়ে ৭’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা এক সপ্তার ব্যবধানে ধানের দাম বৃদ্ধি হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মনিরুজ্জামান জানান, এবার ঝিনাইদহ সদরে ২৩ হাজার ৬’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। মাঠে ফলনও ভাল। তবে এই আবহাওয়ায় তেমন কোন ক্ষতি হওয়ার কথা না।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুর রউফ জানান, কিছু এলাকায় কৃষকদের বৃষ্টিতে সমস্যা করেছে। তবে এটা হতো না, কৃষকরা বিচেলির জন্য সময় ক্ষেপণ করার কারণে দুর্যোগে পড়েছে। তিনি বলেন আমরা পরিসংখ্যানবিদদের সাথে ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করবো। তিনি বলেন, এবার সারা জেলায় ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বেশির ভাগ এলাকায় কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পেরেছে।